বিশেষ সংবাদদাতা • আগামীকাল রোববার থেকেই খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রাণ ফিরে পারে রাজধানী ঢাকা। চিরচেনা ঢাকা প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠবে। দীর্ঘ যানজটে অতিষ্ট হবে নগরবাসী। তারপরও জীবনের গতি সচল রাখতে উর্ধŸশ্বাসে ছুটে চলবে কর্মজীবী মানুষ। ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ২ সেপ্টেম্বর। স্বজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করে বাড়তি ছুটি কাটিয়ে দুদিন যাবত ফিরে আসছেন রাজধানীতে। এদিকে এবারের ঈদযাত্রা বিষাক্ত করে তোলে দেশের দুটো প্রধান নৌরুট মাওয়া-শিমুলিয়া। এখানে ফেরি পারাপারে সমস্যার কারণে ঘরে ফেরা মানুষের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। এছাড়া আরিচা-দৌলদিয়া নৌরুটের অবস্থাও একই। ফেরার অবস্থা আরও কঠিন।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যানজট ৮ কিলোমিটার। এ যানজট দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার জমিদার ব্রিজ ছাড়িয়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয় জানায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে মোট ২১টি ফেরির মধ্যে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সচল ছিল ১৯টি। বাকি দুটির মধ্যে রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামীদুর রহমান শুক্রবার সকালে যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল হয়ে পড়ে। এছাড়া চার দিন ধরে ইউটিলিটি চন্দ্র মল্লিকা বিকল হয়ে পড়ে আছে। ফেরির সংখ্যা যথেষ্ট থাকলেও যানবাহন ও মানুষের চাপ সহজে কমছেই না। রাজবাড়ী থেকে মাহেন্দ্রে আসা যাত্রী আলাউদ্দিন জানান, বাসে উঠতে না পেরে মাহেন্দ্রে রওনা করি। আগে রাজবাড়ী থেকে দৌলতদিয়ার ভাড়া ছিল ৪০ টাকা। সেখানে বৃহস্পতিবার ৮০ টাকা দিয়ে আসতে হলো।
সাকুরা পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক রাজু মোল্লা জানান, সকাল থেকে তাদের কোম্পানির অন্তত ১২টি বাস যানজটে আটকে রয়েছে। একেকটি যাত্রীবাহী বাসকে ফেরির নাগাল পেতে সাত থেকে আট ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এছাড়া অসংখ্য ব্যক্তিগত গাড়ি প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসের আটকা পড়ে আছে। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, ঈদের দুদিন পর থেকে শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌপথের নাব্যতা সঙ্কটের কারণে ওই পথ পরিহার করে অনেক গাড়ি এদিকে আসায় বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আরও দুই-একদিন এই চাপ থাকবে বলে তিনি মনে করেন।


