ফ্রান্সের সব মসজিদ বন্ধের দাবি করলেন লি পেন

ফ্রান্সের সব মসজিদ বন্ধের দাবি করলেন লি পেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ● প্যারিসে পুলিশ বাসের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর ফ্রান্সের  প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী প্রার্থী ম্যারিন লি পেন সেখানকার সিব মসজিদ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে লি বলেন, আমাদের ইসলামি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেতে হবে। ফ্রান্সে অবস্থিত ইসলাম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ বন্ধ করতে হবে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ঘৃণা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তরুণ সমাজ এই পরিস্থিতিতে বেড়ে উঠতে পারে না। আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করলেও বৃহস্পতিবারের এই হামলা সম্পর্কে সন্দেহ আছে। তবে এতে কোন সন্দেহ নেই যে এই হামলা লি পেনের ভোটের পাল্লাকে ভারী করবে। সিএনএন’এর প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলাকে কেন্দ্র করে লি পেন ‘ইসলামি সন্ত্রাসবাদ’ কথাটি ব্যবহার করছেন ও সরকারের তীব্র সমালোচনা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা ভোটের হিসেব-নিকেশ পাল্টে দিবে। নির্বাচনি প্রচারণায় এখন প্রাধান্য পাবে সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াই, অভিবাসন, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা। অভিবাসী বিরোধি লি পেন এখন সেই সুযোগ আরো জোরালোভাবে কাজে লাগাচ্ছেন। সন্দেহভাজন হামলাকারি আগে থেকেই পুলিশের নজরদারিতে ছিল এবং তিনি এস কার্ড প্রাপ্ত ফরাসী নাগরিক এই কথা এখন নির্বাচনের প্রার্থীদের কাছে সবচাইতে বড় হাতিয়ার। কারণ লি পেন এর আগে বলেছেন, ঘৃণা ছড়ানো ইমাম এবং বিদেশী এসকার্ড প্রাপ্ত নাগরিকদের বহিস্কার করা দরকার। এছাড়া হামলার আশঙ্কায় অনেক নাগরিক ভোট দিতে যেতে অনীহা প্রকাশ করতে পারেন। তবে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে না গেলে সেটি লি পেনের জন্য সহায়ক হবে।

কারণ তার সমর্থকরা তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রোববার ফ্রান্সের নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডে ভোট দিবেন ফরাসি নাগরিকরা। প্রথম রাউন্ডের সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোট হবে ৭ই মে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই দিন আগে এই সন্ত্রাসী হামলায় দেশটির পুলিশ বাহিনীর এক সদস্য নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন হামলাকারীও নিহত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে ফ্রান্সে জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। সে সময় হামলায় ২৩০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *