বন্যার ভয়ানক রূপ

বন্যার ভয়ানক রূপ

ভানবাসী তোর নদীর জলে আমরা লক্ষিন্দর, তোর কপালের সিঁদুরে কে মুছিয়ে দিল জল’ চারিদিকে অথৈ জল। গোলা জলের সঙ্গে ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনা থেকে উৎকট গন্ধটা বাতাসে ভর করে প্লাবিত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। কোথাও কোথও মরা পশুপাখির দেহের ওপর বসে পেটের ক্ষুধা নিবারণ করছে কাকপক্ষি। বানভাসী মানুষ তা অসহায় চোখে চেয়ে চেয়ে দেখছে। তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা-গঙ্গা, ধরলা, কুশিয়ারা, কংস নদীর বুকে বান ডেকেছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ছে। বানের জলে ভেসে  গেছে  ফসলি জমি। বন্ধ হয়ে গেছে শ শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভেসে গেছে বেড়িবাধ, পথঘাট। বন্যা কবলিত এলাকায় নানা রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ছে। সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার জলের। প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ সামগ্রীর অভাব। আশ্রয় কেন্দ্রে হাজারো বানভাসী মানুষ। সারিয়াকান্দিতে বানের জলে ভেসে গেছে স্কুল। প্রবল ভাঙ্গন কোথাও কোথাও ভয়ানক রূপ নিয়েছে। ভারীবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বাংলাদেশের উত্তর জনপদের নদনদীর পানি হু হু করে বেড়েই চলেছে। অবনতি দেখা দিয়েছে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির। ভারতের গজলডোবার সব কটি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে তিস্তার ব্যারেজের প্রতিটি গেট খুলে দেয়া হয়। এতে তিস্তা পারের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। অপর দিকে আসামের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। আসামে টানা ভারী বর্ষণ ও বানের জল নেমে আসায় সিলেটের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবণতি ঘটেছে। এখানের সুরমা, কংস নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার, তিস্তা ৭, গাইবান্ধা গাঘট পয়েন্টে ৩৩, ব্রহ্মপুত্র চিলমারি পয়েন্টে ২৯, যমুনার বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে ৭২, সারিয়াকান্দি ৪৭, কাজিপুর ৫০, সিরাহগঞ্জ ৫২, ধলেম্বরীর এলাচিন পয়েন্টে ৩৩, সুরমা নদীর কানাইঘট পয়েন্টে ৫৩, অমলশিট ৫৯, জারিয়াজঞ্জাইল পয়েন্টে ৩১ ও শেওলা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৮   সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রধান প্রধান নদনদীর পানি আরো বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।  পাশাপাশি ভারী বর্ষণ আরো দু’তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

পাউবো সূত্র জানায়, ভারত ১৯৯৮ সালে তিস্তা ব্যারাজের ৬০ কিলোমিটার উজানে গজলডোবা বাঁধ নির্মাণ করে। বর্ষার সময় ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হলে বা উজানে বন্যা হলে এ বাঁধের ৫৪টি গেটের সব কটি খুলে দেয় ভারত। এতে বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে বন্যা দেখা দেয়। প্লাবিত হয় নীলফামারী ও লালমনিরহাটসহ দেশের উত্তরজনপদের  বিস্তীর্ণ এলাকা।

এদিকে দু’দিন ধরে পানিবন্দি মানুষ ত্রাণ সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে তিস্তা পাড়ের মানুষ।  গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে সোমবার সকাল ৯টা থেকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে তিস্তা ব্যারাজের সব (৪৪টি) জলকপাট খুলে দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তিস্তার পানি প্রবাহ কমায় নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলায় বন্যার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তিস্তা পাড়ের বসবাসরতদের দুর্ভোগ এখনো কমেনি। বন্যা দুর্গত মানুষ এখনো পায়নি ত্রাণ সহায়তা। দু’দিন ধরে পানিবন্দি মানুষগুলো অভুক্ত  থেকে ত্রাণ সহায়তার আশায় ক্ষণ গুণছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে বন্যা দুর্গতদের জন্য সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসনের ত্রাণভা-ার হতে জিআর এর ৫৫ মেট্রিকটন চাল ও ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নীলফামারী জেলা প্রশাসক খালেদ রহীম বলেন, উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পাড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে । ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলায় বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের জন্য চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জেলার জনপ্রতিনিধিরা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিস্তায় পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ২৫টি চর ও গ্রামের ১৫ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া পাশ্ববর্তী লালমনিরহাট  হাতীবান্ধা, কালিগঞ্জ উপজেলার নদী বেষ্টিত চর ও গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া বিভাগের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়াস্থ তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে তিস্তা অববাহিকার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চর ও গ্রাম প্লাবিত হয়ে ১৫ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। তবে মঙ্গলবার রাত থেকে তিস্তায় পানি কমতে শুরু করেছে। গতকাল সকাল ৯টায় তিস্তার পানি ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

উল্লেখ, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা ব্যারেজে গজলডোবার উজানে তিস্তা-মহানন্দা খালের মাধ্যমে ভারতে ২ হাজার ৯১৮ কিলোমিটার বাঁধে পানি প্রবেশ করে। তা দিয়ে ভারতের উত্তরাঞ্চলের জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, কুচবিহার ও মালদাহ জেলার ২ লাখ ২২ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ করা হয়। ঠিক ওই সময় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তাপাড়ে দেখা দেয় খরা। ফলে পানির অভাবে ব্যাহত ফসল উৎপাদন।

কুড়িগ্রামে সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বেড়েছে তিস্তা ও দুধকুমারসহ অন্যান্য নদীর পানি। বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর, নাগেশ্বরী ও সদর উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের চর ও দ্বীপচরসহ প্রায় আড়াই শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এসব এলাকার প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ। বানভাসী মানুষজন ঘর-বাড়ি ছেড়ে বাঁধ ও উচু জায়গা আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। টানা ৫দিন ধরে বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা এলাকা গুলোতে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট। অনেক পরিবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে উচুঁ স্থানে আশ্রয় নিলেও তাদের হাতে কোন কাজ না থাকায় খেয়ে না খেয়ে অতিকষ্টে দিন যাপন করছে। বন্ধ রয়েছে জেলার দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ারচর গ্রামের রুবেলের শেফালী বেগম জানান, ৪ দিন হয় বাড়িতে পানি উঠছে। খুব ¯্রােত পড়ছে। দুইটা বাচ্চা নিয়া সারাদিন মানুষের নৌকায় নৌকায় ঘুরছি। সারাদিন রান্নাও হয় নাই, খাইও নাই। মেম্বার চেয়ারম্যান কোন রিফিলও দেয় নাই। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আইয়ুব আলী সরকার জানান, আমার ইউনিয়নের চরাঞ্চল গুলোর ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দী জীবন-যাপন করছে। এর মধ্যে ১শ ৫০ জনকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ কেজি করে চাল বিতরন করা হয়েছে। এই ৩০ হাজার বন্যা দুর্গত মানুষের জন্য ১১ মেট্রিক টন চাল পেয়েছি। যা মঙ্গলবার উত্তোলন করেছি। বুধবার বিতরন করা হবে। জেলা ত্রান শাখা সুত্রে জানা গেছে, বন্যার্তদের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ২শ ৫০ মেট্রিকটন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক বন্যা কবলিত মানুষের জন্য তা অপ্রতুল। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, জেলায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এদিকে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের তথ্য মতে বন্যার পানিতে জেলায় ৭শ ৭১ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে উঠতি আউশ ৭৪ হেক্টর, বীজতলা ১শ ১৩ হেক্টর, সবজি ৩শ ৪৪ হেক্টর, পাট ২শ হেক্টর এবং আখ ৪২ হেক্টর। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ও সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ৫৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।আমাদের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান,  কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্রতিনিয়তই বাড়ছে পানি। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নের ৩শতাধিক গ্রামে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৩লক্ষাধিক মানুষ। বানভাসী মানুষজন ঘর-বাড়ি ছেড়ে বাধ-উচু জায়গা আশ্রয় নিতে শুরু করেছে ও দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট। বন্ধ রয়েছে জেলার দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান ও মানুষজন ভোগান্তিতে পড়েছে।

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি চরাঞ্চল বিষ্ণুপুর, চরলুছনী, ফান্দেরচর, শৌলমারী, ধনীরামপুর, জালিরচর, ব্যাপারীরচর, চরকাপনা, চেীদ্দঘুড়ি, চরদামালগ্রাম, চরনুনখাওয়া, বল্লভেরখাস, পদ্মারচর, মৌলভীরচর, খেয়ারচর, খেলারভিটা, ইন্দ্রগড়, চরমাঝিয়ালি, পাখিউড়া, পাঁচমাথা, মুড়িয়া, ঝুনকারচর, সতিপুর, ভাটিয়ারচর, পাখিউড়া, চরনারায়নপুর, চরবেরুবাড়ী, হেলোডাঙ্গা, ধাউরারকুটি, কাজিয়ারচর, চরউত্তরতিলাই, উত্তর ধলডাঙ্গা, শালঝোড়, দক্ষিন ধলডাঙ্গা, রায়গঞ্জ, বামনডাঙা, নারায়নপুর, মাদারগঞ্জ, কচাকাটা, তরীরহাট, দামালগ্রাম, নুনখাওয়া, কালীগঞ্জ, ভূরুঙ্গামারীর উত্তরঢলডাঙ্গা, চরভূরুঙ্গামারী, বলদিয়া, পাটেশ্বরীচর, পাইকেরছড়া, ভর্তেরছড়া ও ফুলবাড়ীর গোরকমন্ডল, যতিন্দ্রনারায়ন, সোনাইকাজী, মরানদী, চরখোঁচাবাড়ী তলিয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় মানুষ নিদারুন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ও মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বন্যার্তদের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ২শ ৫০মেট্রিকটন চাল ও ৫লাখ টাকা বিতরন করা হয়েছে।

আমাদের মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর পাড়ের বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের ভোলারকান্দি গ্রামের ২ বছরের শিশু কন্যা হুমায়রা । বন্যায় বসত ঘর তলিয়ে যাওয়ায় বাবা-মা আর ভাইবোনের সাথে ঈদের আগে ছিদ্দেক আলী উচ্চ বিদ্যালয় বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। অব্যাহত ভারী বর্ষণে বন্যার অবনতি ঘটতে থাকায় বাড়ি ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সরকারী-বেসরকারী সাহায্য সহযোগিতায় এতদিন দিনে ১-২ বেলা তরকারী ভাত খেতে পারলেও গত ৫ জুলাই থেকে তেমন কেউ আর ত্রাণ নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আসেননি।

এই চিত্র শুধু বড়লেখাতে না পুরো জেলার মৌলভীবাজার সদর সহ ৪ টি উপজেলার ৩৩ টি ইউনিয়নে। এদিকে দিনের বেলাতে পানি কমলেও রাতে বেলাতে বৃষ্টি চলে আসে। ফলে পানি কমেও কমে না। আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ এাণ পৌচ্ছে না তেমনি দূর্গতদের চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিম গঠন করা হলেও তাদেও দেখা মিলছে না। আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে বাড়ছে রোগের রোগীদেও সংখ্যা। রয়েছে খাবাওে তীব্র সংকট। পরিবারপরিজন নিয়ে বিপাকে আছে আশ্রিতরা। যার ফলে বাধ্য হয়ে শিশু হুমায়রার পরিবারকে লবন ভাত খেয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। কিন্ত এখন যেন হুমায়রার গলা দিয়ে আর লবন ভাত ঢুকতে চাচ্ছে না।

শুধু হুমায়রার পরিবারের নয়, এখানে আশ্রয় নেয়া হতদরিদ্র ৮৪ পরিবারের। জানা গেছে, বন্যার অবনতি ঘটায় বড়লেখার তালিমপুর, বর্নি, সুজানগর, উত্তর শাহবাজপুর, দাসেরবাজারসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়া দুর্গত ২৫৩ পরিবার আশ্রয় নেয়। পানি বাহিত নানা রোগ জীবাণু ছড়িয়ে পড়া রোধে গঠন করা হয় ১০টি মেডিকেল টিম। কিন্ত অভিযোগ রয়েছে মেডিকেল টিমের এসব চিকিৎসকরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় অনেকেই নানা অসুখে ভোগছে। বন্যার কিছুটা উন্নতি হলে তাদেরকে বাড়ি ঘরে ফিরতে চাপ দেয়া হচ্ছে। কিন্ত আশ্রিতরা বলছেন এখনও তাদের বসত ঘর থেকে পানি নামেনি।

সরেজমিনে গেল হুমায়রার বাবা মাসুক মিয়া ও মা ফরমিনা বেগম জানান, প্রথম প্রথম সাহায্য পেলেও এখন আর ত্রাণ মিলছে না। নিজেরা না খেলেও কষ্ট নেই। কিন্ত ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা না খেয়ে থাকলে কষ্টের সীমা থাকে না। একেতো অর্ধাহারে অনাহারে লবন ভাত খেয়ে দিনাতিপাত করছি। প্রশাসনের লোকজন আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে দেয়ার চাপ দিচ্ছেন। কিন্ত আমাদের বাড়ি ঘরে এখনও হাঠু ও কোমড় পানি । এ অবস্থায় আমরা যাবো কোথায়।

আশ্রয় নেয়া মিনা বেগম (৬০) জানান, তিন দিন ধরে কেই কিছু দেয়নি। প্রচন্ড জ্বরে ভোগছেন। এ আশ্রয় কেন্দ্রের জাসমা বেগম (২০), সায়মন(২) রাহিম আহমদ (৯), আয়ফুন বিবি (৭০) জাহাঙ্গির আলম(৭) অনেককে জ্বর-কাশিসহ বিভিন্ন অসুখে ভোগতে দেখা গেছে। আশ্রিতরা জানান, ৫ দিন আগে একজন ডাক্তার এসে যান। আর ডাক্তার আসেনি ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এদিকে গত ৫ জুলাই মাধ্যমিক ও প্রাইমারী স্কুলের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বন্যার কারণে তা ১১ জুলাইয়ে পরিবর্তন করা হয়েছে। বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রগুলো বিভিন্ন স্কুলে খোলা হয়েছে। বন্যার অনেক উন্নতি হয়েছে। আশ্রিতরা না ফিরলে পরীক্ষা নেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *