চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :: স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে এসেছেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার। গতকাল মঙ্গলবার বেলা পৌনে ৪টার দিকে কালো রংয়ের একটি গাড়ি নিয়ে নগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে আসেন তিনি। গাড়ি থেকে নেমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. কামরুজ্জামানের কক্ষে প্রবেশ করেন বাবুল আক্তার। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে হাত মেলালেও কোনো ধরনের কথা বলেননি তিনি। মিতু হত্যা মামলার তদন্তের প্রয়োজনে কথা বলতে ডাকায় বাবুল আক্তার তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, আমি কথা বলতে তাকে আসতে বলেছি, সেজন্য উনি এসেছেন।
গত বছরের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে বাসার অদূরে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় বাবুলের স্ত্রী মিতুকে। সে সময় পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে সদর দপ্তরে যোগ দিয়ে ঢাকায় থাকা বাবুল চট্টগ্রামে ফিরে হত্যাকাণ্ডের পরদিন নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এর বাইরে পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করে। অস্ত্র আইনের মামলাটি আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে থাকলেও কয়েকজন গ্রেপ্তার হওয়া ছাড়া হত্যা মামলায় তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। স্ত্রী হত্যার পর থেকে ঢাকার রামপুরা বনশ্রীতে শ্বশুরবাড়িতে দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে থাকতে শুরু করেন বাবুল। ওই সময়ে তাকে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। এ সময় শ্বশুর বাড়ির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে আলাদা বাসায় ওঠেন বাবুল। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের চাকরি থেকে বাবুলকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন হয়। তাতে বলা হয়, বাবুল নিজেই চাকরি ছেড়েছেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে এর আগে গত ২ জানুয়ারি চট্টগ্রামে আসেন বাবুল আক্তার।


