‘বাংলাদেশিদের অন অ্যারাইভাল ভিসা দিতে চীনের সম্মতি’

‘বাংলাদেশিদের অন অ্যারাইভাল ভিসা দিতে চীনের সম্মতি’

পাথেয় রিপোর্ট : বাংলাদেশি নাগরিকদের ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’ দিতে চীনের সম্মতি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ ও বাংলাদেশিদের অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন চীনের জননিরাপত্তা বিষয়কমন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর ঝাও কেঝি।

শুক্রবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ ও চীনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

দু’ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ২৩ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল ও চীনের মন্ত্রীর নেতৃত্বে ২৪ সদস্য বিশিষ্ট দল অংশ নেন।

আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, টুরিস্ট, ব্যবসায়ীরা যদি সময়ের অভাবে ভিসা না নিয়ে যান। তাহলে চীন অন অ্যারাইভাল ভিসা দেবেন। তারা এ বিষয়ে আলোচনা করে গেছেন এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন ও ঘোষণা দেবেন। চীনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি দমন, সাইবার অপরাধ, ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে চারটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এরমধ্যে দুটি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করবে চীন। এছাড়া সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেবে দেশটি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমাদের দেশের ব্যবসায়ীসহ অন্যদের চীনের ভিসা পেতে সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে যায়, অনেক সময় ঠিক সময়ে ভিসা পান না। এ কারণে অন অ্যারাইভাল ভিসা দেয়ার বিষয়টি ভাবছে চীন। টুরিস্ট, ব্যবসায়ীরা যদি সময়ের অভাবে ভিসা না নিয়ে যান তাহলে তারা (চায়না) অন অ্যারাইভাল ভিসা দেবেন। তারা এ বিষয়ে আলোচনা করে গেছেন এবং পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন ও ঘোষণা দেবেন।

আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, বৈঠকে জঙ্গি, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা দিতে চীনের সঙ্গে চারটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বৈঠকে চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে জঙ্গি, সন্ত্রাস ও সাইবার ক্রাইম দমন এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশকে প্রশিক্ষণ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়াও বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগকারীসহ নাগরিকদের নিরাপত্তা দেয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন সে দেশের জননিরাপত্তা বিষয়কমন্ত্রী। আগামীতে তার দেশ বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ করবে বলেও আশ্বাস কথা জানান তিনি।

সকাল ১০টায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনায় সভাকক্ষে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও চীনের জননিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ও পার্টি কমিটির সম্পাদক ঝাও কেঝির নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকটি শুরু হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় চীনের জননিরাপত্তা বিষয়কমন্ত্রী সচিবালয়ে উপস্থিত হলে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয় চীনের মন্ত্রীকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাঙ্গনে অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একটি দলের সালাম গ্রহণ করেন ঝাও কেঝি।

বৈঠকে তিনটি সমাঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এগুলো হলো ‘প্ল্যান অব অ্যাকশন অন ল এনফোর্সম্যান্ট ট্রেইনিং কো-অপারেশন’, ‘কো-অপারেশন ডকুমেন্ট অব ইস্টাবলিশমেন্ট জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ ও ‘সাইনিং অব লেটার অব চেইঞ্জ অন পুলিশ ইকুপমেন্ট এইড’।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, চীনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি দমন, সাইবার অপরাধ, ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সচিবালয়ে এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আসাদুজ্জামান কামাল নেতৃত্ব দেন। চীনের পক্ষে নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির জননিরাপত্তা বিষয়কমন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর ঝাও কেঝি। সকাল সাড়ে ৯টায় চীনের মন্ত্রী সচিবালয়ে উপস্থিত হলে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাঙ্গণে অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে পুলিশের একটি দলের সালাম নেন ঝাও কেঝি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *