বিশ্বের সেরা ৫০০ প্রভাবশালীর ৩২ নম্বরে মাহমুদ মাদানী

বিশ্বের সেরা ৫০০ প্রভাবশালীর ৩২ নম্বরে মাহমুদ মাদানী

কাউসার মাহমুদ : আবারও বিশ্বের সেরা ৫০০ প্রভাবশালী মুসলিম নেতার অন্যতম নির্বাচিত হলেন মাওলানা মাহমুদ মাদানী। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাতার ৩২ এ আছেন ভারতীয় এই মুসলিম লিডার। জর্দানের খ্যাতনামা গবেষণা প্রতিষ্ঠান RISS এর সর্বশেষ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। এখন ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিই হলেন জমিয়তে উলামা হিন্দের এই নেতা।

সম্প্রতি জর্দানের খ্যাতনামা গবেষণা প্রতিষ্ঠান RISS ২০১৯-এ তাদের সর্বেশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে। যেখানে জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারলে সেক্রেটারি মাওলানা সাইয়্যেদ মাহমুদ মাদানীকে লাগাতার দশ বছর বিশ্বের সেরা ৫০ মুসলিম প্রভাবশালী নেতার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে (Riss)। জরিপ অনুযায়ী মাহমুদ মাদানীই এখন ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী ধর্মীয়, সামাজিক এবং মুসলিম জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হলেন।

৫০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির এই তালিকায় সারা বিশ্বে রাজনীতি, সামাজিক কার্যক্রম, শিক্ষা, স্কলারশিপ, সাইন্সসহ আরও নানান কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকা মুসলিম ব্যক্তিদের নির্বাচন করা হয়েছে। কিন্তু প্রথম পঞ্চাশে মাওলানা মাহমুদ মাদানীই একজন ভারতীয়। এর আগে গতবছর এ তালিকায় ছিলেন প্রসিদ্ধ বেরলবি মুসলিম নেতা প্রয়াত মুফতি আখতার রেজা খান কাদরী।

এছাড়াও এ তালিকায় শীর্ষে আছেন পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র পাকিস্তানের বেশ ক’জন। তালিকায় মাওলানা তাকী উসমানী আছেন ৬-এ। তাবলীগ জামাতের মুরুব্বী মাওলানা আব্দুল ওহহাব (১৪)। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান (২৯) এবং মাওলানা তারিক জামিল ৪০-এ অবস্থান করে সেরা পঞ্চাশে আছেন।
জর্দানের রিসার্চ প্রতিষ্ঠান RISS তাদের প্রতিবেদনে মাওলানা মাহমুদ মাদানীর রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে লেখেন, তিনি আতঙ্কবাদ ও ইসলামের সাথে এর কোনও যোগসাজশ নেই তা পরিষ্কার করে কঠোরভাবে তা দমন করেছেন।

দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে এ বিষয়ে ফতোয়া নিয়ে সারা দেশব্যাপী সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসবিরোধী কনফারেন্স, সভা-সেমিনার করে তিনি তা দমনসহ জনসচেতনতা সৃষ্টি করেছেন। যা ভারতের মুসলমানদের উপর বড় প্রভাব ফেলে।

জাতিসংঘে পাকিস্তানের এক প্রতিনিধি দারুল উলূম দেওবন্দকে সন্ত্রাসবাদের মারকায বলায় পাকিস্তানকে খোলা চিঠি লিখে এর তীব্র সমালোচনা করেন মাওলানা মাহমুদ মাদানী। ওই অস্বাভাবিক বক্তব্য বিশ্বব্যাপী প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি করায় এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও ভারতীয় মুসলিমদের শিক্ষা সংস্কৃতি এবং তাদের শক্তি রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই নেতা। মাদরাসা শিক্কায় অনৈতিক হস্তক্ষেপের সবচেয়ে বড় সমালোচক তিনি।

সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *