তদন্তের জন্য ট্রাম্পকে আন্তরিক মনে করেন না খাসোগি বাগদত্তা

তদন্তের জন্য ট্রাম্পকে আন্তরিক মনে করেন না খাসোগি বাগদত্তা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সৌদি আরবের বর্তমান রাজা সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কঠোর সমালোচক যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের নিহত সাংবাদিক জামাল খাশোগির বাগদত্তা খাদিজা চেঙ্গিজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজ সফরের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন বলে জানা যায়। তিনি বলেছেন, জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের ক্ষেত্রে ট্রাম্প মোটেই আমার আন্তরিক মনে হচ্ছে না এবং এ কারণে আমি ট্রাম্পের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছি।

শুক্রবার তুরস্কের টেলিভিশনে চ্যানেল টার্কিশ টিভিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জামাল খাশোগির বাগদত্তা খাদিজা চেঙ্গিজ এসব তথ্য জানিয়েছেন।
শুক্রবার তুরস্কের ‘হাবেরতুর্ক টিভি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে খাশোগির বাগদত্তা খাদিজা বলেন, আমেরিকার জনমতকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে তাকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। আর এই জন্যে হোয়াইট হাউজে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করেছেন।

খাদিজার সঙ্গে বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে নির্মমভাবে নিহত হন জামাল খাশোগি। এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে অন্তত চারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে সৌদি আরব সম্প্রতি স্বীকার করেছে, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে খাশোগির হত্যাকাণ্ড তদন্তের জন্য তুরস্ক সফরে গিয়েছিলেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র প্রধান গিনা হাসপেল। তিনি সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করেছেন বলে জানা যায়। তুরস্ক সফর শেষ তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ব্রিফ করেন তবে ট্রাম্পকে কী বলেছেন তা জানা যায় নি। তুরস্ক সফরের সময় হাসপেল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে রেকর্ড করা টেপ শুনেছেন। খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের জন্য চলতি সপ্তাহে হাসপেল গোপনে তুরস্ক সফর করেন। এ সময় তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে সরবরাহ করা অডিও টেপ তিনি শোনেন। তুর্কি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলের সৌদি কন্স্যুলেট ভবনে খাশোগিকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় এবং তার দেহ টুকরো টুকরো করা হয়।

জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজ পরিবারের জড়িত থাকার কথা এখনো অস্বীকার করে যাচ্ছে রিয়াদ। যদিও তুরস্কের তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, সৌদি যুবরাজের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন সহযোগী এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি মনে করছেন যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান ‘হয়ত’ এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তিনি সৌদি আরবের কাছে ১১০ বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র বিক্রির চুক্তি বাতিল করতেও অনীহা প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় খাশোগির বাগদত্তা খাদিজা চেঙ্গিজ শুক্রবার তুর্কি টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অশ্রুসজল নয়নে বলেন, সৌদি সরকার খাশোগিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে বলে সামান্যতম ধারনা পেলেও তিনি তাকে ওই কনস্যুলেটে যেতে দিতেন না।

খাদিজা চেঙ্গিজ বলেন, শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত যারাই এ পাশবিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত রয়েছে তাদের সবার বিচার করে শাস্তি দিতে হবে। কাউকে শাস্তি থেকে মুক্তি দেয়া হবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে বাগদত্তা খাদিজা জানান, কোনো সৌদি কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। সৌদি আরবে যদি কখনো খাশোগির লাশ পাওয়া যায় তাহলে তিনি তার জানাযায় অংশগ্রহণ করতে দেশটি সফরে যাবেন কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি সে সম্ভাবনার কথা নাকচ করে দেন।

সূত্র : পার্সটুডে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *