পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ‘বাংলাদেশ? এটা কোথায়?’ – এই ছিল এক সময় বিদেশীদের প্রথম প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের নাম শোনার পর। ম্যারাডোনা থেকে শুরু করে অনেকেই এই এমন প্রশ্ন করতো বাংলাদেশের নাম শুনলে। কিন্তু আজ, এখন বিদেশীদের কী প্রতিক্রিয়া হয় বাংলাদেশের নাম শুনলে?
কানাডার অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণারত নিরাপত্তা বিশ্লেষক সাব্বির হুসাইন গতকাল তার কোভিড-উত্তর ভ্রমণ অভিজ্ঞতার ফেসবুকে লিখলে তা মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে ওঠে। প্রবাসী বাঙালিরাও তার সাথে যোগ দিয়ে নিজেদের সুখস্মৃতি তুলে ধরেন। পাঠকদের জন্য তার লেখাটি তুলে দেয়া হলো।
Sabbir Hossain
ব্যপারটা আসলেই ভালোলাগার! গত চারদিনে বিভিন্নধরনের লোকজনের সাথে কথা হলো এবং এরপরই আসলে পার্থক্যটা চোখে লাগলো।
ইমিগ্রেশনে আমার ই-পাসপোর্ট এগিয়ে দিতেই ইমিগ্রেশন অফিসার উল্টে-পাল্টে পাসপোর্ট দেখে বললো “তোমাদের পাসপোর্টটা কিন্তু অসাধারন বানিয়েছে! সাউথ এশিয়ায় ই-পাসপোর্ট দেখেছি বলে মনে হয় না”
গতকাল এক উবার ড্রাইভার যে কিনা লেবানিজ বাড়ি বাংলাদেশে শুনেই বললো “তোমাদের গার্মেন্টস এর পোশাক তো খুব ভালো! আর আমি শুনেছি তোমরা নাকি গত ১০-১৫ বছরে অনেক এগিয়ে গিয়েছো অর্থনীতি তে?”।
ফেরার পথে ইরানিয়ান ড্রাইভার। সে বাংলাদেশ শুনেই বললো ” তোমাদের দেশে তো ৪০+ বয়সীদের ভ্যাকসিন দিচ্ছে!” হ্যাঁ সূচক জবাব দিতে নিজেই বলতে থাকলো “তোমরা অনেক এগিয়ে গেছো অথচ দেখো ফাকিস্তান এর কি বেহাল দশা”
ব্যাংকের এডভাইজিং বুথে অফিসার পাসপোর্টটাকে যেভাবে উলটে পালটে দেখছিলো যে ভয় পেয়ে গেছি! পরে বলছে যে “শুনেছিলাম বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। তোমার পাসপোর্ট দেখে তেমনই লাগছে!”
সার্ভিস কানাডার অফিসার আজ একেবারে গল্পই জুড়ে দিয়েছে। কিভাবে বাংলাদেশ এগোল। সে বলছে “ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট তো মোটামুটি তোমাদের দখলে!”
এই যে এতগুলো টুকরো আলাপ এতে একটা জিনিস স্পষ্ট। ২০১২ থেকে বাইরে যাই। একসময় বাংলাদেশ বললে হয় চিনতো না নাহলে বলতো ইন্ডিয়া। অথচ এখন কি ভালোলাগার ব্যপার যে বাংলাদেশ বলার পর আলাদা পরিচয় মানুষকে দিতে হচ্ছে না বরং তারা আমার দেশ সম্পর্কে, দেশের উন্নতি সম্পর্কে অবগত। আসলেই দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। আর খুব বেশিদিন আলাদাভাবে কাউকে বুঝাতে হবে না “আমরা ইন্ডিয়ার পাশের দেশ”।
বরং পৃথিবীই চিনে নিবে বাংলাদেশকে।
আরও পড়ুনঃ


