বানবাসি দুর্গতদের পাশে দাঁড়ান

বানবাসি দুর্গতদের পাশে দাঁড়ান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : খুব মজুদ আছে ত্রাণ- এমন ঘোষণায় কারও কোনো উপকার নেই। উপকার হবে সরাসরি দুর্গতরা কিছু পেলে। এখনই দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে হবে। চরম দুর্ভোগে বানবাসি। তাদের পাশে না দাঁড়ালে এই দুর্ভোগ কমবে না। দেশে বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বরং পানি কমে যাওয়ার পর নতুন করে পানি বাড়তে শুরু করায় বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।

যেসব এলাকার পানি কমতে শুরু করেছে, সেসব এলাকার দুর্গত মানুষও কষ্টে আছে। চলমান বন্যায় দুই সপ্তাহে পানিতে ডুবে, সাপের কামড়ে বা পানিবাহিত রোগে শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়েছে। বন্যার কারণে দুর্ভোগের পর এখন বহু মানুষ ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ২৮ জেলায় ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবার। এসব জেলার ৭০টি উপজেলাকে ‘দুর্গত এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রায় আড়াই হাজার মেডিক্যাল টিম কাজ করছে বলে জানা গেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, যমুনা ও তিস্তার পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। গাইবান্ধায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্ধ রয়েছে ট্রেন চলাচল। জেলার গোবিন্দগঞ্জে বন্যার পানিতে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে পানিতে ডুবে মারা গেছে তিনজন। নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে লালমনিরহাটে। নীলফামারীতে ১৫ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ দ্বিতীয় দফা বন্যাকবলিত হয়েছে। সিরাজগঞ্জে পানি কমলেও বেড়েছে ভোগান্তি।

ওদিকে তিস্তার প্রবাহ আবারও বিপৎসীমা বরাবর উঠে এসেছে। এ জনপদে নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। তিস্তা ও পদ্মার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা। পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা না পেয়ে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বানভাসি মানুষ। শেরপুর ও গাইবান্ধায় পানিতে ডুবে মারা গেছে পাঁচ শিশু। বন্যার পানিতে বসতবাড়ি ডুবে যাওয়ায় পশু রাখার জায়গা না থাকা এবং পশুখাদ্যের অভাব দেখা দেওয়ায় বগুড়ার অন্তত তিন উপজেলার অনেক গৃহস্থ পরিবার, খামারি ও কৃষক কোরবানির হাটের জন্য লালন-পালন করা গরু আগেভাগেই বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

এবারের বন্যায় বগুড়ায় ১৫টি গবাদি পশু ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩২০টি খামার। বন্যায় জেলায় সব মিলে প্রায় এক কোটি ৬৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে খামারিদের। কুড়িগ্রামে বন্যায় ছয় হাজারের বেশি জলাশয় ভেসে মাছ চাষিদের প্রায় ১৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

আমরা মনে করি, এ অবস্থায় বানবাসিরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। দুর্গত এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ পৌঁছেনি। শিগগিরই সে এলাকায় ত্রাণ ব্যবস্থা করা জরুরি। বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের পরিকল্পনা এখনই নিতে হবে। মানুষ যেন দুর্ভোগে না পড়ে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *