পাথেয় রিপোর্ট : ভারতে দশকের পর দশক ধরে চলতে থাকা বাবরি মসজিদ ও রাম জন্মভূমি সংক্রান্ত জটিলতার মিটমাট হবে মধ্যস্থতার মাধ্যমে, আদালতের রায়ে নয়। তিন ব্যক্তিকে মধ্যস্থতার এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বরে জানা যায়।
শুক্রবার (৮ মার্চ) প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দেন। দলটির নেতৃত্ব দেবেন, ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইব্রাহিম কালিফুল্লা। অন্য দুজন হলেন, আধ্যাত্মিক ধর্মীয় গুরু শ্রী শ্রী রবিশংকর ও আইনজীবী শ্রীরাম পাঞ্চু।
আদালত জানিয়েছে, উত্তর প্রদেশের ফৈজাবাদে এই মামলার বিভিন পক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন তিন জন। আগামী এক মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কমিটির কাজ গোপন থাকবে। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সদস্যরা কথা বলতে পারবেন না। সংবাদ মাধ্যম এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করতে পারবে না।
প্রধান বিচারপতি ছাড়াও বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি এ এস বোদড়ে, বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতিঅশোক ভূষণ এবং বিচারপতি এস এ নাজির। তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রবীণ বিচারপতি এ এস বোদড়ে বুধবার বলেন, ‘জমি নয়, বরং রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলা ভাবাবেগ এবং বিশ্বাস’-এর।’
তিনি বলেন, ‘কে আক্রমণ করেছিল, বাবর কী করেছিল, সেই সময় কে রাজা ছিল, মসজিদ না মন্দির ছিল, সেসব আমরা পাল্টাতে পারব না। আমরা শুধু বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করতে পারব।’
এই মামলায় মোট পাঁচটি পক্ষ। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া, রাম লালা বিরাজমান, অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা এবং মহন্ত সুরেশ দাস। এর মধ্যে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এবং নির্মোহী আখড়া মধ্যস্থতাকারীর সিদ্ধান্তে রাজি হলেও আপত্তি তোলে বাকি তিনটি পক্ষ। তাদের অনেকেরই যুক্তি, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে বেঞ্চের মন্তব্য, ‘আমরা বিষয়টা (মধ্যস্থতা) অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। কিন্তু মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির এক শতাংশ সম্ভাবনা থাকলেও সেই সুযোগটা আমরা দিতে চাই।’
মধ্যস্থতার বিরোধিতায় এক আইনজীবীর যুক্তি ছিল, মধ্যস্থতায় সব পক্ষ রাজি হলেও সাধারণ মানুষ নাও মেনে নিতে পারেন, যেখানে এত মানুষের ভাবাবেগ জড়িয়ে এবং এক পক্ষ রাম মন্দির নির্মাণের তোড়জোড় শুরু করেছে। এ প্রসঙ্গে বিচারপতি বোদড়ে বলেন, ‘আপনি তো ধরেই নিচ্ছেন, এক পক্ষকে অনেক কিছু ছাড়তে হবে বা সমঝোতা করতে হবে এবং অন্য পক্ষের জয় হবে। কিন্তু মধ্যস্থতা মানেই সব সময় এমনটা নাও হতে পারে।’


