আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: দুই বছর আগে যেখানে এক হাজার ভোটে জিতেছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক, এবার সেই ব্যবধান ১৫ হাজারে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ঢুকতে চলেছেন বঙ্গবন্ধুর নাতনি। ৩৫ বছর বয়সী টিউলিপ প্রার্থী হন লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে। ২০১৫ সালে নিজের প্রথম নির্বাচনে রক্ষণশীলদের শক্তিশালী প্রার্থীকে ১ হাজার ১৩৮ ভোটে হারিয়েছিলেন টিউলিপ। পরে তিনি বিরোধী দলনেতা জেরমি করবিনের ছায়া মন্ত্রিসভারও সদস্য হয়েছিলেন।
টিউলিপ গতবার পেয়েছিলেন ২৩ হাজার ৯৭৭ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল দলের প্রার্থী পান ২২ হাজার ৮৩৯ ভোট। শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ এবার ভোট বাড়িয়ে পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৪৬৪টি। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোট কমে হয়েছে ১৮ হাজার ৯০৪টি। এবার যুক্তরাজ্যে ভোটারদের সংখ্যা বেড়েছিল, যাদের অধিকাংশই তরুণ। এতে স্পষ্ট তরুণদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি। জয়ের পর টিউলিপ বলেন, আমি ওয়েস্টমিনস্টারে হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নের হয়ে সরব হব, হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নে ওয়েস্টমিনস্টারের হয়ে নয়। আগাম নির্বাচনে এই জয়ের পর ব্রেক্সিট নিয়ে দর কষাকষির দিকেও নজর রাখবেন বলে জানান এই পার্লামেন্ট সদস্য।
সৈয়দ নাহাস পাশার ক্যামেরায় ভোট গণনার সময় মায়ের সঙ্গে টিউলিপ সৈয়দ নাহাস পাশার ক্যামেরায় ভোট গণনার সময় মায়ের সঙ্গে টিউলিপ শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ও শফিক সিদ্দিকীর মেয়ে টিউলিপ লন্ডনের মিচামে জন্মগ্রহণ করেন। টিউলিপের শৈশব কেটেছে বাংলাদেশ, ভারত ও সিঙ্গাপুরে। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে পলিটিক্স, পলিসি ও গভর্মেন্ট বিষয়ে তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গ্রেটার লন্ডন এবং সেইভ দ্য চিলড্রেনের সঙ্গে কাজ করেন টিউলিপ, যিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে লেবার পার্টির সদস্য হন।
২০১০ সালে ক্যামডেন কাউন্সিলে প্রথম বাঙালি নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হন টিউলিপ। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে স্থানীয় পার্টির সদস্যদের ভোটে টিউলিপ হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে লেবার পার্টির হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার টিকেট পান। লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসন থেকে প্রার্থী হয়ে গতবার মাত্র ২৭৪ ভোটে জেতা টিউলিপের মতোই প্রথম পার্লামেন্ট সদস্য হয়েছিলেন কেমব্রিজের ডিগ্রিধারী রূপা।


