বিবাহবিচ্ছেদ ও সন্তানের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে
এ এম মোতাহের হোসেন : চারদিন হয়ে গেল রাতুলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝে মধ্যে সে বাসা থেকে উধাও হয়ে যায়। রেলস্টেশন, ফুটপাত, পার্ক, সদরঘাট, বিভিন্ন বস্তি এলাকায় তাকে খোঁজা হলো। চাকুরিজীবী বাবা অফিসে যাওয়া বাদ দিয়ে ছেলেকে খুঁজছেন। গত কয়েকবার এসব এলাকায় তাকে খুঁজে পাওয়া গেলেও এবার চারদিন হয়ে গেল তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিশাল এই ঢাকা শহরে রাতুলকে এভাবে খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। রাতুলরা দু’ভাই বোন।
বড়বোন রীনা বেশ শান্তশিষ্ট স্বভাবের, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। রাতুল পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। রীনা ভালো ছাত্রী হলেও রাতুলের লেখাপড়ায় মনোযোগ নেই। রাতুলকে নিয়ে তার পরিবারে খুব অশান্তি। ঘরে সৎমাকে রাতুল কিছুতেই মানতে চায় না। আর এ নিয়ে পরিবারে অশান্তি লেগেই আছে। রীনা শান্তশিষ্ট বলে মনে দুঃখকষ্ট থাকলেও সে মানিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু রাতুল সম্পূর্ণ বিপরীত। সৎমাকে তার মোটেও পছন্দ নয়। তাই সবকিছুতে সে প্রতিবাদ করে। অবাধ্য হয়। সৎমায়ের ছোট সন্তানকে মাঝে মধ্যে মারধর করে। আর এ নিয়ে শুরু হয় অশান্তি। রাতুলের বাবা সারাদিন অফিস শেষে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরা মাত্র শুরু হয় রাতুলকে নিয়ে সৎমায়ের অভিযোগ, অনুযোগ। প্রায় প্রতিদিনই রাতুলের বাবার শুরু হয় রাতুলের ওপর রাগ-ডাক, মারধর। এরপর সুযোগ বুঝে বাসা থেকে রাতুল উধাও।
রাতুলের আসল মা চাকুরিজীবি। রাতুলের বাবার সন্দেহ অফিসের সহকর্মীর সংগে রাতুলে মায়ের সম্পর্ক। এ নিয়ে রাতুলের বাবার সাথে রাতুলের মায়ের সম্পর্কের অবনতি। যতদিন যায়, রাতুলের বাবার সন্দেহ আরো বাড়তে থাকে। দু’জনের মধ্যে দিন দিন ঝগড়াঝাঁটি বাড়তে থাকে। রাতুলের বাবা রাতুলের মাকে চাকুরি ছেড়ে দিতে বলে কিন্তু রাতুলের মা কিছুতেই চাকুরি ছাড়বে না। এতে রাতুলের বাবার সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়।
এক পর্যায়ে দু’জনের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। রীনা ও রাতুলের বয়স তখন দশ ও ছয় বছর। ছাড়াছাড়ির পর রাতুল ও রীনা কিছুদিন মায়ের কাছে ছিল। কিন্তু সন্তানরা মায়ের কাছে থাকুক এটা রাতুলের বাবা মানতে পারছেন না। সন্তান কার কাছে থাকবে সে নিয়েও আবার আইন-আদালত পর্যন্ত গড়ালো। শেষ পর্যন্ত দু’সন্তানই বাবার কাছে।
লেখক : কলামিস্ট ও সমাজ বিশ্লেষক


