বিশ্ব ইজতেমায় এক মুসল্লির মৃত্যু
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) শুরু হচ্ছে তাবলীগ জামাতের তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এতে অংশ নিতে তুরাগ তীরে মুসল্লিরা দলে দলে জড়ো হচ্ছেন। এরইমধ্যে ইজতেমা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগত মুসল্লিদের মধ্যে বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সকালে ইয়াকুব আলী শিকদার নামে এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।
মারা যাওয়া মুসল্লি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ার লাখিরপাড় এলাকার হাসেম আলীর ছেলে।
ইজতেমার মুরব্বি হাজি রেজাউল করিম জানান, সকালে সাড়ে ৬টার দিকে ইয়াকুব আলী শিকদার নিজ খিত্তায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে তার লাশ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে সকাল থেকে গাজীপুরে কয়েক দফা বৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন ইজতেমায় আগত মুসল্লিরা। ইজতেমায় যোগ দিতে গতকাল বুধবার থেকেই দলে দলে ইজতেমা ময়দানে আসছেন তারা। মুসল্লিদের এ ঢল বৃহস্পতিবার সকালেও দেখা গেছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মুসল্লিদের এই ভিড় অব্যাহত থাকবে। বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে করে এসব মুসল্লি টঙ্গী স্টেশন রোড, চেরাগআলী, উত্তরার কামারপাড়া এলাকায় নেমে হেঁটে ময়দানে এসে নিজ নিজ জেলার খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একপশলা হালকা বৃষ্টি হয়ে যায় টঙ্গীতে। এতে মুসল্লিরা কিছুটা সমস্যায় পড়েন।
সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে এবার যে সব মুসল্লি ময়দানে তাদের খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন তাদের প্রায় সবাই বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে পলিথিন-কাগজ সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। বৃষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে ময়দানে চটের নিচে অবস্থান নেয়া মুসল্লিরা দুর্ভোগে পড়বেন। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে রান্না-বান্না এবং খিত্তায় অবস্থান করাও কঠিন হয়ে যাবে।
ময়মনসিংহ থেকে আসা মুসল্লি আবদুল কাদের জানান, তার সঙ্গে ১০ জন সাথী রয়েছে। বুধবার রাতে তারা ইজতেমা ময়দানে আসেন। ইজতেমায় আসার উদ্দেশ্য দ্বীনের জন্য মেহনত এবং নিজের ঈমান ও আমলকে মজবুত করা।
এদিকে এবার পুরো ইজতেমা ময়দান এলইডি লাইট দিয়ে সজ্জিত করেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন। শেষ মুহূর্তে মুসল্লিদের যাতায়তের পথগুলো মেরামত, ময়দান পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হচ্ছে। মুসল্লিদের সুবিধার সার্বিক দিক ইজতেমা ময়দানে উপস্থিত থেকে দেখভাল করছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম।
অপরদিকে ইজতেমা ময়দানের পাশে বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পগুলো বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হচ্ছে। পুরো ইজতেমা ময়দানের চারপাশে সিসি ক্যামেরাগুলো সচল করা হয়েছে। মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে আইন শৃঙ্খখলা বাহিনীর সদস্যরা।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইজতেমা ময়দান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ মুসল্লিদের সকল ধরনের সেবা প্রদানের জন্য সিটি কর্পোরেশন প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্ব ইজতেমার মাওলানা জুবায়ের অনুসারী মুরব্বি ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান জানান, ময়দানকে মোট ৯২টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। এবার দেশের ৬৪ জেলার মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন। তাদের জন্য ৮৭টি খিত্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাঁচটি খিত্তা সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। কোনো জেলার মুসল্লি বেশি হলে অথবা মাদরাসাছাত্রদের ওই খিত্তাগুলোতে দেয়া হবে।
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে দেশের মুসল্লিদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেবেন। বিদেশি মেহমানদের জন্য বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের উত্তর-পশ্চিম পাশে নিবাস তৈরি করা হয়েছে। সেখানে তাদের জন্য গরম পানি, রান্নার জন্য গ্যাস, উন্নত টয়লেটসহ নানা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


