মাওলানা আমিনুল ইসলাম :: মাদ্রাসার দস্তারবন্দী সন্মেলনে যদি প্রখ্যাত আলেমদের হেস্ত-ন্যাস্ত হতে হয়, সাধারণ জনতার মাহফিলে কি হবে? একজন আলেমের ইজ্জত পাওয়ার জায়গা তো মাদ্রাসা, কিন্তু সেখানেই অপমানিত হতে হচ্ছে বড় দুঃখের বিষয়।
হম্বি-তম্বি করা বক্তাদেরকে আমরা সমীহ করছি বেশী। সুরকার আর সাউন্ড গ্রেনেড মারা বক্তাদের দৌরাত্মে নিরীহ আল্লাহ ওয়ালা বুজুর্গদের অপমান অপদস্থ হতে হচ্ছে। শুধু জামেয়া তায়াক্কুলিয়া রেঙ্গাতে নয়। দেশের প্রায় জায়গাতে এসব ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে।
বহু জায়গায় দেখা যায়, একজন আল্লাহ ওয়ালা প্রবীণ আলেম -শায়খুল হাদীস বয়ান করছেন, এমন অবস্থায় এসে যায় হম্বি-তম্বি ওয়ালা বক্তা, তখনই আমাদের স্রোতারা হৈচৈ শুরু করে দেন। ষ্টেজের পরিচালনায় থাকা ব্যক্তিগণ, বক্তার থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। যিনি ওয়াজ করছেন, তার প্রতি যেন কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।
আর এটা করছি, বেশীর ভাগ আমরাই। আমাদের মত কিছু আলেম আর মাদ্রাসার তালেবুল ইলম। মানে একজন ইজ্জত ওয়ালা মানুষকে মোটেও আমরা সন্মান করছিনা। বরং অপমান হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সৈয়দ মবনু সাহেব যে লিখেছেন, শায়খুল হাদীস মনিরুল ইসলাম সাহেবের কথা, একদম সত্য কথাটি তুলে ধরেছেন। এরকম অহরহ ঘটনা ঘটে যাচ্ছে দেশের সব জায়গাতে। কেউ কখনো এটা নিয়ে কথা তুলছেন না।
সিলেটের এক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গা। সেখানকার শত বর্ষ উদযাপন মাহফিলে একজন শায়খুল হাদীসের মত ব্যক্তির অপমান মানে পুরো আলেম সমাজের অপমান। তবে মামুনুল হক সাহেবদের যে কিছু করার নেই তা নয়। তাদেরও হিসেব করে চলতে হবে। মামুনুল হক সাহেবের এত আগেও ষ্টেজে যাওয়া ঠিক হয়নি। আর গেলেও স্রোতাদের সান্তনা দেওয়া, হৈচৈ না করার ব্যাপারে হাতের ইশারায় ঈঙ্গিত দিতে পারতেন। কিন্তু কে কার কথা শোনে, সাউন্ড খ্যাত হওয়ার পর থেকে তো আর ওসব আলেমদের থোড়াই কেয়ার!
তবে আমাদের সন্তান আর যুব আলেম সমাজ কোথায় হাঁটছেন? পা বাড়িয়েছেন কোন দিকে? তাহলে বুজুর্গ আল্লাহ ওয়ালা আলেমদের কি ওয়াজ চলবে না? একজন খাঁটি নিঃস্বার্থবান মানুষদের কি আমরা এভাবে অবমুল্যায়ন করে যাব? তাহলে আমাদের কাছেই যদি আমাদের বুজুূর্গ আল্লাহ ওয়ালাগণ সন্মান না পায়, তাহলে তাদের সন্মান কোথায়?
আমরা ভাড়াটিয়া বক্তাদের আজ বেশী মুল্যায়ন করি। ওয়াজে লাফালাফি করে যারা, যারা বেশী চিল্লাইতে পারে, আর সুর তুলতে পারে যারা, বক্তৃতার শেষে যাদের বান্ডিল ধরায়ে দেই গোপনে গোপনে, তাদেরই মুল্যায়ন হচ্ছে আজ এই সমাজে। অথচ মুখলিস আলেমদের কোন পাত্তা দিচ্ছি না। আমাদের বড় আফসোস! একটি ইদারা। আলেম তৈরীর কারখানার মধ্যে আজ আলেমের ইজ্জত নেই।
এ ব্যাপারে আমাদের আয়োজকদের কোন তোড়-জোড় দেখি না। তারাও ব্যক্তি পুজারী। ঐ হম্বি-তস্বি ওয়ালাদের পিছনে পিছনে। এর দ্বারা জাতির কত ক্ষতি হচ্ছে, আমাদের সন্তানদের কি শেখায়ে যাচ্ছি, সে ব্যাপারে বে-খবর।
এসব প্রোগ্রাম থেকেই তো আমাদের সন্তানরা শিখবে। একটা বৃহৎ প্রোগ্রাম। একটি খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান। এসব জামেয়াগুলো অত্র অঞ্চলের মডেল। তারা যা করবে, ঠিক তাদের দেখাদেখি অন্যরাও তাই করবে। তারা যদি আলেমদের ইজ্জত করেন, তাহলে অন্যরা এটা শিখবে। আর যদি তারা আলেমদের বেইজ্জতি করেন, তাহলে অন্য মাদ্রাসায় এর আছর পড়বে।
এজন্য মাহফিলের আয়োজকদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি, মাহফিলে কোন বক্তাকে খাঁটো করা নয়। কাউকে ছোট করা যাবেনা। সকল আলেমকে ইজ্জত দিতে হবে। কোন আলেম যেন বেইজ্জতি না হয়, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা চাই। আল্লাহ আমাদের সঠিক বোঝার তাওফিক দিন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক


