বৃহস্পতিবার থেকে চার দিন বন্ধ ডাচ-বাংলা ব্যাংকের লেনদেন
পাথেয় রিপোর্ট : এটিএমবুথের জন্য সবচেয়ে খ্যাতনামা ডাচ-বাংলা ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ থাকছে চার দিন। ১৪ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে চার দিন শুরু। ব্যাংকের কিছু আধুনিকায়নের কাজ চলছে ডাচ-বাংলায়। প্রযুক্তিগত আরও উন্নয়নের স্বার্থেই ডাচ-বাংলা ব্যাংক তাদের আড়াই কোটির মতো গ্রাহক কোনোধরনের লেনদেন করতে পারবেন না। এমনকি কেনাকাটাও করতে পারবেন না ডেবিট কার্ড দিয়ে।এজেন্ট ব্যাংকিং এবং মোবাইল সেবা রকেটও থাকবে বন্ধ। তথ্য ভাণ্ডারের এই আধুনিকায়নের কাজের দোহাই দিয়েই তারা দীর্ঘ চার দিন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
এভাবে ঘোষণা দিয়ে ব্যাংক বন্ধ রাখার বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন গ্রাহকরা। আড়াই কোটি গ্রাহকের এই দুশ্চিন্তার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন তারা। অবশ্য কর্তৃপক্ষ এ জন্য দুঃখও প্রকাশ করেছেন।
গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ডাচ-বাংলা কর্তৃপক্ষ বলেছে, আমরা আমাদের আড়াই কোটি গ্রাহকের কাছে গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন ভবিষ্যতের সুরক্ষার জন্য গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
বুধবার সন্ধ্যায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিস্টেম আপগ্রেড-এর জন্য ১৪ মার্চ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ১৯ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ব্যাংকের শাখা, এটিএম, পস (পিওএস) এবং এজেন্ট ব্যাংকিংসহ সব প্রকার ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
বিষয়টি জেনে ব্যাংকের অনেক গ্রাহক ফোনে তাদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন।
শেখ মুহাম্মদ হামদানী নামের এক গ্রাহক নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়ে বলেন, আমি সবসময় নগদ লেনদেন করি না বললেই চলে, যেহেতু আমার রকেট এবং ডাচ বাংলা ব্যাংকের ডেবিট কার্ড আছে, আমি সেটাই সব সময় ব্যাবহার করি। এখন যে চার দিন বন্ধ থাকবে, সেটা আমার জন্য একটা বড় ধরনের বিপদ হয়ে যাবে। এত বড় একটি ব্যাংকের এই ধরনের কার্যক্রম খুবই হতাশাজনক।
চার দিন সেবা বন্ধের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও গ্রাহকদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার তথ্য ডাচ-বাংলার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। এই সময়ে গ্রাহকদের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও থাকছে না।
এক গ্রাহক ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, যার শুধু এই ব্যাংকেই একাউন্ট আছে, তার কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য টাকা কোথা থেকে তুলবে, হাসপাতালের বিল কীভাবে দেবে?
আরেক গ্রাহক বলেন, গ্রাহকদের কেউ বিদেশে থাকলে সে কিভাবে এই চার দিন লেনদেন করবে? পৃথিবীর যে কোনো দেশে এই ধরনের ঘটনার চার-মাস আগে জানিয়ে দেওয়া হয়। এরা জানিয়েছে দুই-তিন দিন আগে।
ডাচ বাংলার কর্মকর্তারা মনে করছেন, দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি এবং তারপর দিন সাধারণ ছুটি হওয়ায় গ্রাহক ভোগান্তি কম হবে মনে করেই তারা এই সময়টি বেছে নিয়েছেন কাজটির জন্য।
১৫ ও ১৬ মার্চ (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি এবং ১৭ মার্চ রোববার বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে সাধারণ ছুটি। তবে পরদিন ১৮ মার্চ সোমবার সব কিছুই খোলা থাকবে।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন ভবিষ্যতের সুরক্ষার জন্য গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ব্যাংকের গ্রাহকদের ভবিষ্যৎ সুবিধার জন্য এটি সাময়িক সমস্যা। আমরা বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো একটি খুবই অত্যাধুনিক তথ্য ভাণ্ডার বা ডেটা সেন্টার গড়ে তুলেছি, যাকে পিআইইআর ফোর ডেটা সেন্টার বলা হয়।
ডাচ-বাংলার এই কর্মকর্তা বলেন, এতদিন সাভারে আমাদের একটা ডেটা সেন্টার ছিল। এ অবস্থায় যদি কোনো কারণে সেটা ফেইল করত তাহলে কিন্তু সিস্টেম চালাতে সমস্যা হয়ে যেত। তাই আমরা প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ করে এই পিআইইআর ফোর ডেটা সেন্টার গড়ে তুলেছি, যাতে কখনোও আমাদের সার্ভারের ডেটা সেন্টার ফেইল করলে যেন গ্রাহকদের কোনো সমস্যা না হয়। এখন এই ডেটা সেন্টারটা সিস্টেমে যোগ করতে আমাদের এই সময় লাগছে।


