পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতীয় ফল আমদানি বন্ধ রেখেছেন। গত দুদিন বন্দরটি দিয়ে ফলজাতীয় কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেনি।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নতুন নিয়ম জারি এবং বিদ্যমান বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ভারত থেকে আপেল, কমলা, বেদানাসহ বিভিন্ন কাঁচা ফল আমদানি বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। ফলে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে আটকে রয়েছে ফল বোঝাই শতাধিক ট্রাক। তবে কিছু রফতানিকারক ফলভর্তি ট্রাক পেট্রাপোল বন্দর থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরে নিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
বেনাপোল বন্দর দিয়ে যেসব পণ্য আমদানি হয়, তার বড় একটি অংশ রয়েছে ফলজাতীয় পচনশীল কাঁচামাল। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে এসব পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। বেনাপোল বন্দরে পৌঁছাতে কিছু পণ্য পচে নষ্ট হয়। এক্ষেত্রে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রতি কার্টনে শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে এক কেজি ছাড় দিয়ে আসছিল। হঠাৎ এ ছাড় বন্ধ করে দেয়ায় ব্যবসায়ীরা এ পথে আমদানি বন্ধ করে দেন।
ফল আমদানিকারক বেনাপোলের রয়েল এন্টারপ্রাইজের মালিক রফিকুল ইসলাম রয়েল জানান, খাদ্যদ্রব্য জাতীয় কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বেনাপোল কাস্টমসের কড়াকড়ির কারণে দীর্ঘ ১৫ বছর এ পথ দিয়ে সেগুলো আমদানি বন্ধ ছিল। পরে পচনশীল পণ্য বিবেচনায় কাস্টমস কিছু ছাড় দেয়ায় চলতি বছরের প্রথম থেকে আবার বেনাপোল বন্দর দিয়ে কাঁচামাল আমদানি শুরু হয়। কিন্তু সম্প্রতি ভারত থেকে আমদানি করা ফলের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ফলের সঙ্গে আসা কার্টনেরও শুল্ক দিতে বলছে তারা। এ নিয়মে কাঁচা ফল আমদানিতে লোকসান হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তারা।
বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (প্রশাসন) আব্দুল জলিল বলেন, প্রতিদিন ভারত থেকে ২০-২৫ ট্রাক আপেল, আঙ্গুর, বেদানা, কমলা, টমেটোসহ বিভিন্ন ফল আমদানি হয়ে থাকে। তবে ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ ঝামেলায় গত দুদিন কোনো ফলের ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেনি।
এদিকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে শুল্ক আরোপের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটি অস্বীকার করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল কাস্টম হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার নিয়ামুল ইসলাম জানান, কাস্টমস কোনো নতুন নির্দেশনা জারি করেনি। কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত সুবিধা না পেয়ে এ পথে আমদানি করছেন না। নিয়ম মেনে আমদানি করলে পণ্য খালাসে কোনো বাধা নেই বলেও জানান তিনি।
/এএ


