বেরিয়ে আসছে মওদুদীবাদীদের আসল চেহারা

বেরিয়ে আসছে মওদুদীবাদীদের আসল চেহারা

বেরিয়ে আসছে মওদুদীবাদীদের আসল চেহারা

মাওলানা আমিন কাসেমী :: মওদুদীবাদীদের আসল চেহারা জাতির সামনে প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। আরও স্পষ্ট হচ্ছে তাদের চরিত্র। তাদের নেফাকী।  অবশ্য অবাক হবার কিছু নেই! আপনারা আশ্চর্য হলেও আমি কিন্তু হচ্ছি না। কেননা, এটা তাদের আসল চেহারা। এটাই তাদের মুল চরিত্র।

জনাব মওদুদী সাহেবের হাত থেকে যেখানে নবী আলাইহিস সালাম এবং সাহাবায়ে কেরাম রেহাই পায়নি, আর বর্তমান জামানার আলেমগণ কীভাবে রক্ষা পাবেন মওদুদীর অনুসারীদের হাত থেকে।

কথায় বলে, বাপকা বেটা সিপাহী কা ঘোড়া, কুঁচ না হো তো থোড়া থোড়া- এরা তো সেই মওদুদীর চেলা- চামুণ্ডা। সুতরাং কিছু কিছু মওদুদীর সিফাত তো থাকবেই এমন।

মওদুদীর অনুসারীরা শুধু এই সময় নয়। এরা যুগে যুগে আলেম- উলামার শানে বেয়াদবী করেছে। শুধু একজন দুজন আলেম নয়, হাজারো হাক্কানী আলেম এবং পীর মাশায়েখের শানে বিষোদগার করেছে বেপরোয়াভাবে। ওদের স্বার্থে যখনই আঘাত এসেছে, তখন বেরিয়ে আসে ওদের আসল চেহারা।

ওরা মুখে মুখে শুধু ঐক্যের স্লোগান। আর তলে তলে আলেম- উলামাকে বেকায়দা ফেলার চক্রান্ত করে সব সময়। মানে “মুখে শেখ ফরিদ আর বোগল মেঁ ইট” ওরা মুখে শুধু হুজুর হুজুর করে আর তলে তলে আলেমদের বিরুদ্ধে নানারকম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

আমরা যতদূর জানি, মওদুদীবাদের এক বড় লিডার, সাঈদী সাহেব, যিনি চরমোনাই-এর পীর মরহুম সৈয়দ ফজলুল করিম-এর সাথে ওয়াদাবদ্ধ হয়েছিলেন, তারা এক সাথে ইসলামী আন্দোলন করবেন। কিন্তু সাঈদী সাহেব নেফাকী করলেন। ওয়াদা ভঙ্গ করেছিলেন তখন। এক সঙ্গে পীর সাহেবের সাথে মিটিং এর ওয়াদা ছিল, কিন্তু তিনি পীর সাহেবের সাথে মিটিংয়ে শরীক না হয়ে ওমরার ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে চলে যান। এরপর সৌদি থেকে এসে আবার জামাতে যোগদেন তিনি।

মানে ওয়াদা খেলাফী কাকে বলে। মুনাফেকী চরিত্র কাকে বলে, সব পাওয়া যায় তাদের মধ্যে। একেক সময় একেক রূপ ধারণ করে এই মওদুদীবাদী গ্রুপ।

ঢাকার একজন বড় আলেম মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈফী সাহেব, এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, জামাতের চরিত্র হলো ফুটবলের মত। ঢাকা স্টেডিয়ামে যখন আবাহনী আর মোহামেডান-এর ফুটবল খেলা হয়, তখন দেখবেন, ফুটবলকে একবার আবাহনী এর প্লেয়ার লাথি মারে মোহামেডান প্লেয়ার এর কাছে দেয়, আবার মোহামেডান এর প্লেয়ার লাথি মেরে আবাহনী এর খেলোয়াড় এর কাছে দিয়ে থাকে।

ঠিক মওদুদীবাদী জামাতে ইসলামীকে একবার বিএনপি লাথি মেরে আওয়ামী লীগের কাছে পাঠায়, আবার আওয়ামী লীগ লাথি মেরে বিএনপি-এর কাছে পাঠায়।

ওরা একেক সময় একেক রূপ ধারণ করে নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য।কখনো বিএনপি, কখনো আওয়ামী লীগের কাছে ধরনা ধরে। মোটকথা বহুমুখী চরিত্রের অধিকারী এই জামাত তথা মওদুদীবাদী গোষ্ঠী। কোন নীতি আদর্শ নেই। শুধু ক্ষমতা দখলের জন্য ওদের যা করার দরকার সবই করে থাকে। জায়েজ – নাজায়েজ , সত্য -মিথ্যার মিশ্রণ ঘটাতে তাদের সিদ্ধহস্ত।

কিছুদিন আগে জামাতের বক্তা আমির হামজা সাহেবকে দেখতাম, চরমোনাই-এর গুণকীর্তন করতে। চরমোনাই-এর নায়েবে আমীর সাহেব এবং চরমোনাইকে হক্কানী দরবার বলে আখ্যা দিতেন। হঠাৎ করে এখন দেখি ভিন্ন সুর। চরমোনাইকে এক নাগাড়ে তুলোধুনো করে যাচ্ছেন। যাচ্ছে তাই বলছেন। মানে, স্বার্থে বড় আঘাত লেগেছে হয়তো। আর সঙ্গে সঙ্গে চরিত্র বদল করে ফেললেন।

জামাতের আরেক বক্তা, তারেক মনোয়ার সাহেব এবং আমির হামজা, কদিন আগে কিন্তু চরমোনাই বেল্টের বক্তা হাফিজুর রহমান সাহেবের পিছনে ঘুরঘুর করেছিলেন। হঠাৎ আবার সেই চরমোনাই বড্ড খারাপ!

বর্তমানে জামাতের আরেক উদীয়মান বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী সাহেব কিছু মাসয়ালার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করছেন। মানুষকে ভুল ফতোয়া দিয়ে গোমরাহীর দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম আজহারী সাহেবকে সতর্ক করলেও তিনি তার কথার ওপর অনড়। আমাদের ওলামায়ে কেরাম বারবার সে বিষয়গুলি থেকে ফেরত আসার অনুরোধ জানাচ্ছেন। কিন্তু আজহারী তো ফিরে আসছেন না।বরং আজহারী এর ভক্ত, জামাত শিবিরের কর্মীরা আলেমদের লক্ষ্য করে গালিগালাজ করে যাচ্ছে। যে সব ভাষা মুখে আনা যায় না, সে সব ভাষা ব্যবহার করছেন।

আমাদের বাংলাদেশের শীর্ষ আলেম, আল্লামা নুর হোসেন কাসেমীকে যেভাবে গালিগালাজ করল ঐ মওদুদীবাদীরা, তাতে খুবই দুঃখজনক বিষয়। এসব বিষয়গুলো মানতে কষ্ট হচ্ছে সকলের।

সম্প্রতি শিশু বক্তা নামে পরিচিত, হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম সাহেব, যিনি বারিধারা মাদ্রাসার বর্তমান আদব বিভাগের ছাত্র। নুর হোসেন কাসেমী সাহেবের বিশেষ শাগরেদ তিনি। সেই শিশু বক্তার একটা বক্তৃতা কেন্দ্র করে আজহারী ভক্ত জামাত- শিবিরে এক ভাই, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলেন।সেই সাথে তার উস্তাদকে মারাত্মকভাবে গালি দিলেন।

ভিডিও দেখে খুবই কষ্ট পেলাম। এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ঠিক নয়। আলেমগণ তো সত্য সঠিক মাসয়ালা বয়ান করার অধিকার রাখেন, সুতরাং সেটাকে কেন্দ্র করে, একজন বয়োজৈষ্ঠ আলেম আল্লামা নুর হোসেন কাসেমীকে অপমান করা বড় দুঃখজনক।

আসলে মওদুদী বাদীদের আসল চেহারাটা কি, সেটা জাতির সামনে আবারও স্পষ্ট হচ্ছে। ওরা আলেম বিদ্বেষী। ওরা নবীর দুশমন, সাহাবাদের দুশমন।
আল্লাহ তায়ালা মওদুদীবাদীদের থেকে আমাদের হেফাজত করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *