বেলা গড়াচ্ছে, শহীদ মিনার মুখী শ্রদ্ধার লাইন দীর্ঘ হচ্ছে

বেলা গড়াচ্ছে, শহীদ মিনার মুখী শ্রদ্ধার লাইন দীর্ঘ হচ্ছে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…’-এ গান গাইতে গাইতে ফুল হাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মুখী মানুষের ঢল যেন বেলা গাড়নোর সঙ্গে সঙ্গে আরও দীর্ঘ হচ্ছে। একুশের সূর্য ওঠার পর থেকে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য দীর্ঘ লাইন ধরে শহীদ মিনার এলাকায় প্রবেশ করছে।

রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে একুশের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সকালে বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে সাদা কালো পাঞ্জাবি, শাড়ি পরে শুরু হয়ে প্রভাতফেরির শ্রদ্ধা নিবেদন। শহীদ মিনারের পশ্চিম দিক থেকে বেদীতে ওঠার দীর্ঘ লাইন এঁকে বেঁকে চলে গেছে বহুদূর। সবার হাতেই নিজ নিজ সংগঠন, প্রতিষ্ঠানের ব্যানার, ফুলের ঢালা। পরনে বেশিরভাগেরই পাঞ্জাবি আর শাড়ি। বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এমন হাজার হাজার লোক এখনও শহীদ মিনারের বেদীতে শ্রদ্ধা জানাতে অপেক্ষায় আছেন।

মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার পরও দেখা গেছে শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা তাদের। এই লাইন মানুষের ঢল এঁকে বেঁকে চলে গেছে জগন্নাথ হলের গেট পেরেয়ি আজিমপুর সংযোগ সড়কের দিকে।

বেদীতে প্রবেশের জন্য ওয়ারী থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমারাসহ শত শত সংগঠন দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছি। মানুষের ঢল নেমেছে এখানে, সব সংগঠনগুলো সবাই শহীদ বেদীদে শ্রদ্ধা জানাবে। তাই সিরিয়ালে দাঁড়াতে হয়েছে সবাইকে। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে আস্তে আস্তে লাইনগুলো সামনের দিকে এগিয়ে আসছে। জগন্নাথ হলেও আরও অনেক পর থেকে আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছি। খুব ধীর গতিতে শহীদ মিনারের দিকে লাইন এগুচ্ছে।

কর্মজীবি নারী নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, প্রায় এক ঘণ্টার ওপরে লাইনে দাঁড়িয়ে কেবল শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারলাম আমরা। এখনও পেছনে দীর্ঘ লাইন রয়েছে বিভিন্ন সংগঠনের। শুধুমাত্র এক পথ দিয়েই প্রবেশ করা যাচ্ছে যে কারণে মানুষের লাইন আরও দীর্ঘ হয়েছে। পেছনে যতদূর চোখ যায় ততদূর শুধু মানুষ আর মানুষ। সবাই কোনও না কোনও সংগঠন, প্রতিষ্ঠানের ব্যানার নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে একুশের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭১ বছর পূর্ণ হলো।

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়, যে কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দিবসটি পালিত হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *