বড় ভাইয়ের স্মৃতি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী : বড় ভাইয়ের বাসায় যখন আমাদের খাওয়ার আমন্ত্রণ হত, তার গল্প করি। তিনি প্রত্যেককে নিজের হাতে পরিবেশন করতেন। এটাই ছিল তার সবচে’ বড় আনন্দ এবং যতক্ষণ আমাদের খাওয়া অর্ধেক শেষ না হত, ততক্ষণ খাওয়া শুরু করতেন না। প্রতিটি আত্মীয় তার কাছে এত প্রিয় ছিল যে বলার নয়। আমি মাঝে মাঝে দই অথবা মিষ্টি নিয়ে হাজির হতাম। তিনি আমার খাতিরে অল্প একটু খেতেন, শুধু আমাকে খুশি করার জন্যে।
কোথায় হারিয়ে ফেললাম আমাদের সেই এক সঙ্গে কাটান দিনগুলো। আর কোনদিন ফিরে পাব না। মফস্বল অঞ্চলের মাছ অথবা টাটকা সবজি তার খুব ভাল লাগত। যেমন পাট শাক। কিন্তু সেটা তিতো হতে হবে।
কচি শশা। হাইব্রিড হলে চলবে না। পালং শাক। খুব যত্নের সঙ্গে চিংড়ি মাছ এর রান্না হত। বিশেষভাবে প্রস্তুত শুটকি এবং সিদোল। খাশির গোশত এমন হত যে সবাই আমরা তাকিয়ে থাকতাম কখন আমাদের পাতে আরও এক টুকরা পাব। যখন সত্যি সত্যি দু’ টুকরোর জায়গায় তিন টুকরো পেতাম, নিজকে মহারাজা মনে হত। মীর্ণা এসে বসলে, ওর জন্যে আলাদা খাতির। ও কোন টুকরা পছন্দ করে উনি সেটা জানতেন। গোশতের মধ্যে আলু একটা মজার আইটেম। আমি এটি সংগ্রহ করতাম। কুচবিহারের রান্নার আরেকটি বিশেষত্ব হল গরুর গোশতের মধ্যে আস্ত রসুন। সেটি খেতে অসম্ভব ভাল লাগত। এখনও হয় আসমার রান্নাতে।
খাওয়ার পর বসত পানের আসর। উনি পানের সমজদার ছিলেন। অনেক রকমের মশলা এবং তার মধ্যে জর্দাও ছিল। আমি পান ও সিগারেট থেকে চিরদিন দূরে। যাকে বলে ভাল ছেলে।
দিন চলে যায়। কোনদিন ফিরে আসে না। আমার ভাইয়ের বাড়িটা ঠিক তেমনি রেখে দেয়া হয়েছে। মাঝে মাঝে আমি তার বিছানায় গিয়ে একটু গড়িয়ে আসি। ঠিক যেন তার স্পর্শ পাওয়া। আমার আম্মার বড় খাটটি আমি পেয়েছি। সেখানে অনেকে ঘুমাতে পারে। মাকে জড়িয়ে শুয়ে থাকতাম। তাকে জড়িয়ে মীর্ণা, পাশে আসমা। কিছু দিন পরে ইভু, সামিরা, লাবণী, রিমি, নুপু। খাট পরিপূর্ণ। এমন খাট কেউ কোনদিন দেখেছে?
মু. জা. আ.
৩রা ভাদ্র, ১৪২৬


