ভারতবর্ষের কোন ইতিহাস নেই | আবুল ফাতাহ কাসেমী

ভারতবর্ষের কোন ইতিহাস নেই | আবুল ফাতাহ কাসেমী

ভারতবর্ষের কোন ইতিহাস নেই | আবুল ফাতাহ কাসেমী

অনেক ভারতীয় বিদ্বানদের দাবি, ভারতীয় সংস্কৃতি ঐকান্তিকভাবে ভারতবাসীর স্বকীয় সৃষ্টি এবং ভারতবাসী বলতে কেবল সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসীদেরই বুঝিয়ে থাকেন। সনাতন হিন্দু ধর্মে যারা বিশ্বাসী নয় তাদেরকে নিতান্ত অনিচ্ছুক ভাবে ভারতীয় বলে স্বীকার করলেও ভারতীয় সংস্কৃতিতে তাদের অবদান তারা স্বীকার করতে চান না। দৃষ্টিভঙ্গির এই সংকীর্ণতা ও একদেশদর্শিতা ভারতের রাজনৈতিক আকাশকে বারবার মেঘাচ্ছন্ন করেছে এবং বহুবার বহু রক্তপাতও অশ্রুপাতের কারণ হয়েছে। এবং এখনও অভ্যাহত আছে।

ভারতের বর্তমান অবস্থা আমাদেরকে ভাবিয়ে তোলে। একদিকে কট্টরপন্থীদের ‘ঘর ওপেসি’ আন্দোলন অন্যদিকে উদারপন্থী -যারা দীর্ঘসময়ের ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞাত- তারা শক্তিহীন আহত পাখির মতো কোণঠাসা। এমন পরিস্থিতির জন্যই হয়তো প্রখ্যাত জার্মান দার্শনিক হেগেল বলেছেন, ‘ভারতবর্ষের কোন ইতিহাস নেই’। এই অসাধারণ উক্তির ব্যাখ্যাও তিনি দিয়েছেন। ভারত বর্ষ যুগ যুগ ধরে চলেছে একটা ঘোরের মধ্য দিয়ে, একটা স্বপ্ন দশার মধ্য দিয়ে। এই স্বপ্ন দশায় আর যাই হোক ইতিহাস নির্মাণ সম্ভব নয়। আধুনিক ভারতীয় পণ্ডিতরা হেগেলের এই উক্তির প্রতিবাদ করেননি।

ইসলামের আগমন এবং তৎপরবর্তী ভারতের সমাজ, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও পুরো কমিউনিটিতে ইসলামের প্রভাব এ অঞ্চলকে বিশ্ব দরবারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। মুসলমানদের দীঘল রাজ্যশাসন ও ইসলামের উদার অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির সহাবস্থানের বিষয়টি বর্তমান এ অপাংক্তেয় অশুভ কালে বোঝানো মুশকিল। অবশ্য ভারতের অনেক প্রখ্যাত ঐতিহাসিক গবেষক ডক্টরগণ এসব কথা স্বীকার করেছেন অকপটে । তাদের মধ্যে একজন ডক্টর তারাচাঁদ। তিনি তার ইংরেজি ভাষায় লিখিত ‘ইনফ্লুয়েন্স অব ইসলাম ইন ইন্ডিয়ান কালচার’ গ্রন্থে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। এর বাংলা অনুবাদ -‘ভারতীয় সংস্কৃতিতে ইসলামের প্রভাব’ নামে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে হাজার ১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয়।

বিদগ্ধজনদের মতে, বাহ্যিকভাবে মিথ্যার শক্তি বড় মনে হলেও দিনশেষে বাস্তবতার জয় হয়ে থাকে। তাই আমাদের প্রাচ্য কেন্দ্রিক এসব অঞ্চলে বর্তমান পরিস্থিতিতে কবির উক্তিই বেশি মনে পড়ে-

মেঘ দেখে তুই করিসনে ভয়
আড়ালে তার সূর্য হাসে…

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *