ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠায় করতে চান ইমরান খান

ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠায় করতে চান ইমরান খান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের সঙ্গে আর বিরোধ নয় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চান বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেছেন, তার ক্ষমতাসীন দল ও দেশের প্রভাবশালী সেনাবাহিনী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ও বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের অবসান চায়।

তিনি বুধবার পাঞ্জাব প্রদেশের কারতারপুরে ভারতের সঙ্গে একটি সীমান্ত ক্রসিং উদ্বোধন করার সময় এ মন্তব্য করেন।
পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ও সেনাবাহিনী ভারতের সঙ্গে একটি ‘সুসভ্য সম্পর্ক’ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

বন্ধুত্ব স্থাপনের জন্য ভারত এক পা অগ্রসর হলে পাকিস্তান দুই পা অগ্রসর হবে বলেও জানান ইমরান খান। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল, অন্যান্য রাজনৈতিক দল, সেনাবাহিনী ও জনগণ অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছে।

কারতারপুর সীমান্ত ক্রসিং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতীয় অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র আলোচনা এবং মানবতার প্রতি অগাধ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেই কেবল কাশ্মির বিতর্কের অবসান ঘটানো সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দু’টি পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে যারা যুদ্ধের কথা বলে তারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছে। ইমরান খান বলেন, পরমাণু যুদ্ধে দুই পক্ষই পরাজিত হয়। ঘৃণা পোষণ করে কোনোদিন সমস্যার সমাধান হয় না।

তিনি বলেন, গত ৭০ বছর ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শত্রুতাই কেবল বেড়েছে। এর পেছনে দুই দেশেরই ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য যখনই দু’পক্ষ এক পা অগ্রসর হয়েছে তখন এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যাতে দুই পা পিছিয়ে যেতে হয়। পরস্পরকে দোষারোপের নীতি থেকে বেরিয়ে তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

পাকিস্তানের ডেইলি নিউজ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক মনির আহমেদ বলছেন, পাকিস্তানের এখনকার সব সংকট সমাধান হয়তো সহজ হবে না। তবে সেটা একেবারে অসম্ভবও হবে না। কারণ ইমরান খানের নিজস্ব কিছু ক্যারিশমা রয়েছে।

তিনি ক্রিকেটের হিসাবে সফল ছিলেন। যখন ক্যান্সার হাসপাতাল করার উদ্যোগ নিলেন, সবাই বলেছিল হাসপাতাল সম্ভব না। কিন্তু সেটি তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাজনীতিতে আসার পর তাকে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়েছে, তিনি ঝুঁকি নিয়েছিলেন। সেসব বাধা উপেক্ষা করে তিনি হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি যে এভাবে নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করবেন, সেটাও কেউ ভাবেনি। কিন্তু তিনি এতদূর পর্যন্ত এসেছেন।

সূত্র : পার্সটুডে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *