পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের মান্দায়া জেলার কানাগানামারাদি গ্রামে যাত্রীবাহী একটি চলন্ত বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খালের পানিতে ডুবে গেলে পাঁচ শিশুসহ অন্তত ২৫ জন নিহতে হয়েছে বলে জানা যায়। প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় পুলিশের সূত্রে জানা যায়, কানাগানামারাদি গ্রামে যাত্রীবাহী বাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে সড়কের পাশের খালে পড়ে যায়। এ সময় গাড়িটি ডুবে গেলে যাত্রীরা আটকা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলে শিশুসহ অন্তত ২৫ জন মারা যান। প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পাশেই খেতে কৃষকেরা কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করেন।
কর্ণাটকের ভারপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রী জি পারমেশ্বর বলেন, আমার বিশ্বাস চালক সঠিকভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন না। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব। এই দুর্ঘটনায় সমবেদনা প্রকাশ করে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এক টুইট বার্তায় বলেন, ভয়ংকর ওই দুর্ঘটনার খবরে আমি ভীষণ ব্যথিত। নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। প্রার্থনা করছি আহতদের দ্রুত উদ্ধার করা হবে।
এদিকে গত ২২ অক্টোবর ভারতের মুম্বাইয়ে অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান উবার ও ওলা’র চালকেরা ধর্মঘট ডেকেছিলেন। এই এক ধর্মঘট বা বিক্ষোভেই পুরো ভারতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে উবার ও ওলা।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের খবরে বলা হয়েছে, রাইড শেয়ারিং ব্যবস্থায় ভারতের শীর্ষ দুটি কোম্পানি হলো উবার ও ওলা। অক্টোবরের ধর্মঘটে মুম্বাইয়ের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা বেশ বিপাকে পড়ে। ট্রেন-বাস ও রিকশা ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছিলেন তাঁরা। স্থানীয় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, সেদিন শহরের ৩৫ হাজার চালকের প্রায় ৯০ শতাংশই কাজ বন্ধ রেখেছিলেন। তবে অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং কোম্পানির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ বা প্রতিবাদের ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগে যুক্তরাজ্যেও এ ধরনের ধর্মঘটের মুখোমুখি হতে হয়েছিল উবারকে। ভারতেও এ ধরনের ধর্মঘট ঠেকানোর মতো কোনো আইন নেই। চালকদের ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে তাঁদের মোট দাবির ৮০ শতাংশই মেনে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভাড়ার হার বাড়ানোর মতো দাবিও ছিল। সে ক্ষেত্রে এই প্রথমবারের মতো রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোকে মধ্যস্থতা করতে হলো বা আলোচনার মাধ্যমে নমনীয় হতে হলো।


