মোদীর রাজ্যে গোপন চলছে মুসলিম শিক্ষার্থী শনাক্তের জরিপ

মোদীর রাজ্যে গোপন চলছে মুসলিম শিক্ষার্থী শনাক্তের জরিপ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের গুজরাট রাজ্যে মুসলিম শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করণের কাজ চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বর্তমান বিজেপি সরকারের এমন উদ্যোগের কথা শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) একটি সংবাদপত্রে প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুসলিম সংখ্যালঘুদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর আনন্দবাজার।

সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজের রাজ্য। এখানে সরকারের এমন আচরণ দেখে বেশ আতঙ্কিত রাজ্যের বেশীরভাগ শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক। যদিও তারা এ বিষয়ে মুখ খুলতে একদমই নারাজ। তবে এ কাজকে সম্পূর্ণ ‘সংবিধান বিরোধী’ বলেও মন্তব্য করেছেন রাজ্যের বিরোধী নেতারা।

মুসলমান শিক্ষার্থীদের চিহ্নিতকরণের বিষয়ে সংবাদপত্রটি জানায়, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকের বোর্ড পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় পরীক্ষার্থী মুসলিম কিনা তা জানতে চাওয়া হয়েছে। যদিও গুজরাটে আরও অন্তত চার ধর্মের সংখ্যালঘুরা বসবাস করে। যাদের মধ্যে খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, শিখ এবং জৈনরা আছেন। তবে গুজরাট সরকার এদের বাদ দিয়ে শুধু মুসলিম শিক্ষার্থীদের কাছেই তাদের পরিচয় জানতে চাইছে। রাজ্যের মুসলিম শিক্ষার্থীদের অবিভাবকের প্রশ্ন, কেন সরকার এসব তথ্য সংগ্রহ করছে? এই তথ্যের অপব্যবহার হতে পারে বলেও আশঙ্কা অনেকের।

দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মুসলিম শিক্ষার্থীর বাবা রুস্তম আলী বলেন, ব্যাপারটা আমাদের অবাক করার মতো। অনলাইন ফরমের তথ্য যদি অন্য কাজে লাগানো হয়, তাই খুব ভয়ে হচ্ছে। একই শ্রেণির আরেক ছাত্রের বাবা একটি রেস্তোরাঁ চালান। তার মতে, ২০০২ সালের নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকার এ ধরনের একটি জরিপ চালু করেছিল। সে সময় প্রতিটি থানা তাদের এলাকার মুসলিম ব্যবসায়ীদের পরিচয় জানাতে বলেছিল। এরপরেই আমাদের সব রেস্তোরাঁ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

ডনের সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজের রাজ্যে এ ধরনের কাজ সত্যিই অবাক করার মত। এখানে সরকারের এমন আচরণ দেখে বেশ আতঙ্কিত রাজ্যের বেশীরভাগ শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকগণ। যদিও তারা এ বিষয়ে মুখ খুলতে একদমই নারাজ। তবে এ কাজকে সম্পূর্ণ ‘সংবিধান বিরোধী’ বলেও মন্তব্য করেছেন রাজ্যের বিরোধী নেতাদের অনেকে।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন জিগ্নেশ মে বাণী, হার্দিক পাটেলের মতো রাজ্যের বিরোধী নেতারা। তাদের মতে, ‘গুজরাট সরকার মুখে জাতীয়তাবাদের কথা বললেও ঠিক এভাবেই তারা ধর্মের নামে ভাগাভাগি করছে।’ গোটা বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক বলে দাবি করেন জিগ্নেশ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *