পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের একাংশের সভাপতি, আমীরুল হিন্দ, ক্বায়িদে মিল্লাত হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানী শনিবার (২৮ মে) জমিয়তের অপর অংশের আয়োজনে এক সম্মেলনে যোগদান করে বলেন, ‘আপনাদের মাঝে আমার এই উপস্থিতিই (বিভক্তির) বিষয়টি মিটিয়ে দেয়ার জন্য অনুঘটক হয়ে উঠতে পারে।’
তাঁর এই মন্তব্যের পর উপস্থিত শ্রোতাদের মাঝে আনন্দের হিল্লোল বয়ে যায়। স্লোগানে স্লোগানে তারা অনুষ্ঠানস্থল মুখরিত করে তোলেন।
এসময় সম্মেলনের আয়োজক জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি, শাইখুল হিন্দে সানী হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ আসআদ মাদানী, দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম হযরত মাওলানা আবুল কাসিম নোমানীসহ মাওলানা মাহমুদ মাদানী নেতৃত্বাধীন জমিয়তের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আল্লামা আরশাদ মাদানী তাঁর বক্তব্যের সূচনায় বলেন, ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি আমাকে বলা হয়, আর আমি নিজে আযীযে মুহতারাম মাওলানা মাহমুদ সাহেবকে জমিয়তের সভাপতি বলছি।’
দুই জমিয়তের একীভূত করণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আল্লামা আরশাদ মাদানী বলেন, ‘ভারতের বর্তমান অবস্থায়, বিশেষত মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত চলছে, দেশেরতরে অসীম আত্মত্যাগের ইতিহাসের ধারক এবং মুসলমানদের এক শতবর্ষী মহৎ সংগঠন হিসাবে এই সংকট মোকাবেলায় জমিয়তের উচিৎ একসাথে কাজ করা।’
একীভূত হওয়ার এই উদ্যোগকে একটি গণদাবি উল্লেখ করে আল্লামা মাদানী বলেন, ‘ভারতের পরিস্থিতির কারণেই কেবল এই উদ্যোগ নয়, বরং এই ঐক্য আজ সকলের প্রাণের দাবি। আশা করি আগামী কিছুদিনের ভেতরই আল্লাহ তাআলা এই একীভূত হওয়ার এমন পথ ও পন্থা তৈরি করে দেবেন, যা সকলের জন্যই ইনশাআল্লাহ প্রশান্তিয় হবে।’
ভারতে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান শেষে আল্লামা মাদানী ‘কিছুদিনের ভেতরই দুই জমিয়তের একীভূত হওয়ার সুসংবাদ পাওয়া যাবে’ বলে পুনরায় আশাব্যক্ত করেন।
এদিকে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের দুই অংশের এই ঐতিহাসিক একীভূত করণ সম্পর্কে উভয় জমিয়তের দুই কর্ণধারের স্নেহভাজন, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর নির্বাহী সভাপতি মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুনের অভিব্যক্তি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পারস্পরিক ঐক্য, ভালোবাসা, সম্প্রীতি সবসময় একটি আরাধ্য বিষয়। আকাবিরে জমিয়ত যারা বাংলাদেশে ছিলেন, হযরত শায়খ আব্দুল হক গাজীনগরী (রহ.), হযরত মাওলানা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ (রহ.), মুফতি নুরুল্লাহ সাহেব (রহ.) প্রমুখ এঁরা সবসময় চাইতেন দুই জমিয়ত যেন একীভূত হয়ে যায়। তাঁরা এর জন্য নানাভাবে চেষ্টা চালিয়েছেন, দুআ করেছেন।
বর্তমানেও আকাবিরে জমিয়ত শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব (দা.বা.) সবসময় আশাকরেন, দুই জমিয়ত একীভূত হয়ে যেন মুসলমানদের জন্য কাজ করতে পারে। ভারতবর্ষের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত কাঙ্খিত এক বিষয় হলো, জমিয়তের দুই অংশের একীভূত হয়ে যাওয়া। একসাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা। এতে মুসলমানদের সর্বত মঙ্গল ও কল্যাণ হবে বলে সকলে একমত।
তবে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হচ্ছে, কী কী শর্তাবলীর ভিত্তিতে, কোন ফর্মুলায় দুই জমিয়ত একীভূত হবে, এ বিষয়ে বাংলাদেশে বসে আমাদের অতিউৎসাহী আলাপ-আলোচনা বা চিন্তাফিকির না করাই সবার জন্য কল্যাণকর। এসব বিষয়ে আমাদের চিন্তিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা শুধু দুআ করি, আল্লাহ তাআলা যেন তাঁদের ‘এক’ করে দেন, একীভূত হওয়ার পথ সহজ করে দেন।’



