পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতে ধর্মীয় এক অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় কমপক্ষে ৪ জন নিহত হয়েছে বলে জানা যায়। গুরুতর আহত হয়েছে ১০ জন। খবর এনডিটিভির।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির অমৃতসর শহরের আদিলওয়াল গ্রামে নিরাঙ্কারি সম্প্রদায়ের এক অনুষ্ঠান চলাকারে ১৮ নভেম্বর রবিবার বেলা ১২টায় গ্রেনেড ছুড়ে মারে কিছু দুষ্কৃতি। মোটরসাইকেলে করে এসে হামলা চালায় দুষ্কৃতিরা। পাঞ্জাব পুলিশের ডেপুটি কমিশনার কামালদিপ সিং বলেন, এতে ৪ জন নিহত হয়েছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরো অনেকে। পুলিশ ধারণা করছে, এটা জঙ্গী হামলা। স্থানীয় কিছু সংবাদ মাধ্যমের দাবি, নিহত ও আহতের সংখ্যা আরো অনেক।
এদিকে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় গাজায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া শক্তিশালী এ ঝড়ে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নির্ধারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। ১৮ নভেম্বর রবিবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা একথা জানান। খবর এএফপি’র।
১৬ নভেম্বর শুক্রবার উপকূলে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড় গাজা তামিলনাড়ুর দিকে চলে যায়। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে। ঝড়ের আঘাতে হাজারো গাছপালা উপড়ে গেছে এবং বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এতে লক্ষাধিক লোক বাধ্য হয়ে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে চলে গেছে।
রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত ঝড়ের আঘাতে ৩৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ১১ জন নারী ও দুই শিশু রয়েছে। তিনি এএফপি’কে বলেন, ঝড়ের কারণে এ পর্যন্ত এক লাখ ৭৭ হাজার ৫শ’ লোক ৩৫১টি শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।
শুক্রবার খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সূত্রে জানা গিয়েছিল, ভারতের তামিলনাড়ুতে ঘূর্ণিঝড় গাজায় কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে অনেকে। তামিলনাড়ুর নাগাপট্টিনম থেকে ৪৮০ কিলোমিটার এবং চেন্নাই থেকে ৪১০ কিলোমিটার দূরে ছিল গাজার অবস্থান। শুক্রবার থেকেই তুমুল বৃষ্টি ও ঝড় শুরু হয় তামিলনাড়ুতে।
এরপর বৃহস্পতিবার রাতে তামিলনাড়ুর নাগাপট্টিনম, তিরুভারুর এবং তাঞ্জাভুরে আছড়ে পড়ে গাজা। ওই সমস্ত এলাকা আগেই ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছিল। দুর্ঘটনা এড়াতে প্রায় এক লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়ে। এর মধ্যে ৫ জন দেওয়াল চাপা পড়ে এবং ১ জন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। অন্য পাঁচ জনের মৃত্যুর ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এছাড়া গাজার ফলে এসব অঞ্চলের যান চলাচল ও বৈদ্যুতিক অবস্থা বন্ধ হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে নিরাপত্তা ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা।


