ভেজাল প্রতিরোধে উদ্যোগী হতে হবে

ভেজাল প্রতিরোধে উদ্যোগী হতে হবে

খাদ্য নিরাপত্তা

ভেজাল প্রতিরোধে

উদ্যোগী হতে হবে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ছাড়া কাম্য নয়। বিশেষত নকল ঔষধ আমদানি ও তৈরির পথরোধ করা না গেলে দেশের মানুষকে সুস্থ করা যেমন কঠিন তেমনি ভেজাল খাদ্য থেকেও মানুষকে বাঁচানো উচিত। ভেজালে দেশের অবস্থা নাকাল। কেবল মশায় ডেঙ্গু হয়ে মানুষ হাসপাতালে যাচ্ছে এমন নয়। ভেজাল খাদ্যের কারণেও বিপুল পরিমাণ মানুষ ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে।

বাংলাদেশকে অনিরাপদ খাদ্যের দেশ বললেও ভুল হবে না। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে পিছিয়েই থেকে গেছি বরাবর। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সরকার অঢেল অর্থ খরচ করলেও নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে তারা কতটুকু মনোযোগী তা সংশয়ের ঊর্ধ্বে নয়। জনবলের অভাবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কার্যত ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে। সরকার দেশবাসীর জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাদ্য নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট আইনগুলোকে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’ নামে একটা আইনের অধীনে নিয়ে এসেছে। এর আওতায় গঠন করা হয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যেহেতু গঠিত হয়েছে সুতরাং এ দিয়েই আত্মতৃপ্তিতে থাকার কিছু নেই। যথাযথ লোকবলের অভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শুধু দালানকোঠা সাজিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ আছে। এ বিষয়ে গবেষণার কোনো উদ্যোগ। বাংলাদেশে ভেজালমুক্ত খাদ্য আর আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া যেন একই হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন কোনো খাদ্যপণ্য নেই যেখানে ভেজাল নেই। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশ খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সাফল্য দেখিয়েছে। চার দশকে আগের চেয়ে মানুষ প্রায় দ্বিগুণ খাদ্য গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। দুর্ভিক্ষ, মঙ্গা ছিল যে দেশের নিত্য সহচর তা ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। এ সাফল্য সত্ত্বেও বাংলাদেশের খাদ্যের মান নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই।

খাদ্য নিরাপত্তাকে পাশ কাটিয়ে এখন আলোচনার মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপদ খাদ্য। খাবারে ভেজালের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায়ই খাদ্য চালান ফেরত আসছে নিরাপত্তার অজুহাতে। খাবারে ফরমালিন মেশানো হচ্ছে। ফল দ্রুত পাকাতে দেওয়া হচ্ছে কারবাইড।

সবজিতেও ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে। মানুষ খাদ্য গ্রহণ করে জীবনীশক্তি অর্জন ও সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য। কিন্তু ভেজাল ও ক্ষতিকর খাদ্য মানুষের জীবনীশক্তি কেড়ে নেয়। সুস্থতার বদলে অসুস্থতা নিয়তির লিখন হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের মানুষ এখনো অর্থনৈতিক ও শিক্ষায় পিছিয়েই বলবো। কারণ, গণসচেতনতায় আমরা এগিয়েছি সত্য, এখনো পরিকল্পনা ছুঁতে পারিনি। সত্যটা হলো, অনিরাপদ খাদ্য বাংলাদেশে ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের বিস্তার ঘটাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্যের জন্য তা স্পষ্টতই হুমকি। আমরা মনে করি, উদ্যোগী হতে হবে এ বিপদ কাটাতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণেও। জনস্বার্থে এটি সরকারের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *