ইভিএমে ঢাকা সিটি নির্বাচন
ভোট উৎসব হোক সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ
মাসউদুল কাদির :: রাজধানী ঢাকার মানুষ একটি ভোট উৎসবের অপেক্ষায়। এই ভোট হবে ইভিএমে। ঢাকা সিটি নির্বাচন নতুন আনন্দ হিসেবে যোগ হয়েছে এই ভোট উৎসব। ইতোমধ্যেই উত্তাপ ছড়িয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এই নির্বাচন। মানুষের অপেক্ষার পালা শেষ। এবার শনিবার সূর্য ওঠার পর থেকেই শুরু হবে সময়মতো ভোট উৎসব। সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগে ভিন্ন ধরনের আনন্দ ও গৌরব বোধ করেন সাধারণত মানুষ। যথাসময়ে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে- এটা ঢাকাবাসীর জন্য আনন্দ সংবাদ। ভোট মানে রাজনৈতিক উত্তাপ, চায়ের কাপে ঝড়। এবার প্রার্থী মনোনয়নের আগে থেকেই শুরু হয়েছে উত্তাপ। ঢাকায় প্রচ- শীতের মধ্যেও এই ভিন্নধর্মী উত্তাপ-উত্তেজনা এবং চায়ের কাপে ঝড় তোলা চলেছে নিত্য।
ইভিএম নতুন উদ্দীপনা তৈরী করলেও একটা হতাশা কাজ করছে বিরোধী পক্ষে অন্তরে। তারা এতেও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কিছু একটা দেখছেন বলে দাবি করছেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থানের মধ্যে ভোটার উপস্থিতির বিষয়টিও এখন আলোচনায়।
শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দুই সিটিতে ভোট চলবে ইভিএমে। এর আগে ব্যাপক জনসচেনতায় প্রচার, প্রদর্শনী ও মক ভোটিংয়ের আয়োজন করেছিল নির্বাচন কমিশন। গত মঙ্গলবার ইভিএম প্রদর্শনীতে ভোটারদের সাড়া দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেন, জনগণ যারা জানতে চায় বুঝতে চায়, তাদের জন্য এ প্রদর্শনী। ভোটাররা যাতে বুঝতে পারে। প্রদর্শনী ভালোই তো হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য, নিজের ভোট দিয়ে দেওয়ার জন্যই ইভিএমে ভোট।
তার ঠিক এক দিন বাদে শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ইভিএমের অনুশীলন দেখতে গিয়ে ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার অবশ্য কর্মকর্তাদের সাথে নতুন ভোটারের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে উল্টো মন্তব্যও করেছেন।
কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, এর আগে এত বড় পরিসরের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়নি। একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তারা সফল হবেন বলেই আশা করছেন। তথ্যপ্রযুক্তির এই মিশনে বাংলাদেশ সফল হোক- এটাই আমাদের প্রকৃত প্রত্যাশা। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সেই সেকেলে রূপ এখন আর থাকতে পারে না। নির্বাচন সব দিক থেকে সুন্দর ও সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রেও কোনো ত্রুটি আমরা চাই না। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলগণ সজাগ ও সচেতন থাকবেন বলেই আমরা আশাবাদি।


