মসজিদ ক্যান্টনমেন্ট, গম্বুজ আমাদের হেলমেট : এরদোগান

মসজিদ ক্যান্টনমেন্ট, গম্বুজ আমাদের হেলমেট : এরদোগান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :  রাজসিক কবিতা পড়ে রজব তাইয়্যেব এরদোগানকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। ইতিহাস। কারাগারের সেই দুঃসময়কে স্মরণ করে এবং এখনকার এই সুসময়ে দাঁড়িয়ে আবার সেই কবিতা মুখে উচ্চারণ করলেন এরদোগান। নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে ঠিক ২০ বছর পরে সেই ময়দানে হাজার হাজার তুর্কি ও কুর্দি জনতার সামনে আবার সেই কবিতা পাঠ করলেন এরদোগান।

কবিতা শুনিয়ে তখনকার সরকারের সঙ্গে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের শাসনের পার্থক্য তুলে ধরেন সবার সামনে।

২০ বছর আগে ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে ইস্তাম্বুল সিটির মেয়র থাকাকালীন তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় শহর সিআরতে তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন।

তৎকালীন সেক্যুলার সরকার এই কবিতার মাঝে ধর্মীয় উসকানি এবং ধর্ম ও ধর্মনিরপেক্ষতার মাঝে বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগ এনে আজকের জনপ্রিয় নেতা এরদোগানকে কারাদণ্ড দেয়। কয়েকমাস কারাভোগ করে অবশেষে মেয়র এরদোগান ২০০০ সালের মার্চে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা বিশ্বের প্রভাবশালী মুসলিম নেতা এরদোগান আবার বিখ্যাত সেই কবিতাটি শুনিয়ে আবার উজ্জীবিত করলেন ভক্তদের। বহুদিন পর তার কন্ঠে আবার শোনা গেল ‘মসজিদ আমাদের ক্যান্টনমেন্ট, গম্বুজ আমাদের হেলমেট, মিনার আমাদের বেয়নেট এবং মুসল্লিরা আমাদের সৈনিক, এই পবিত্র দল পাহারা দিবে আমাদের দীনকে।

এর আগে আজান ও তুর্কি সংস্কৃতিবিরোধীদের হাতে দেশ নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। ইস্তাম্বুলে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলে টিয়ার গ্যাস ও কুকুর লেলিয়ে দিয়ে কর্মসূচি পণ্ড করে দেয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ইস্তাম্বুলের প্রধান সড়ক ইস্তিকাল অ্যাভিনিউয়ের প্রবেশমুখে সমবেত ওই নারীদের কর্মসূচিটি ‘স্বাভাবিক’ ছিল না বলে জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট। খবর আল আরাবিয়াহ।

রোববার আদানা প্রদেশের এক নির্বাচনী জনসভায় এরদোগান বলেন, রিপাবলিকান পিপলস পার্টি এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির কিছু নারী সদস্য তাকসিম পয়েন্টে সমাবেত হয়েছিল। তারা আজানের সময়ে মুখ দিয়ে সিটি বাজানোসহ ব্যাপক শোরগোল করেছিল তারা। তাছাড়া বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগানও দিয়েছিল তারা।

শুক্রবারের ওই নারী সমাবেশের একটি ভিডিও ক্লিপ প্রেসিডেন্ট এরদোগান সমাবেশে প্রদর্শন করেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে সমাবেশে নারীরা উচ্চ আওয়াজে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছে, পাশেই একটি মসজিদে আজান চলছে।

এ সময় রিপাবলিকান পিপলস পার্টি এবং ডেমোক্রেটিক পার্টিকে আজান ও তুরস্কের সংস্কৃতিবিরোধী বলে অবিহিত করে এরদোগান বলেন, ‘যারা আজানকে সম্মান জানায় না এবং তুর্কি সংস্কৃতিও চর্চা করে না তারা কীভাবে দেশকে সম্মান জানাবে। তাদের হাতে এ দেশের সভ্যতা সংস্কৃতি নিরাপদ নয়।’

এরদোগানের এমন বক্তেব্যর প্রেক্ষিতে ওই র্যা লিতে অংশ নেয়া নারীরা টুইটারে লিখেছেন, সিটি বাজিয়ে আনন্দোল্লাস করাটা তাদের ঘোষিত কর্মসূচিতে ছিল না। র্যািলিতে লোকসমাগম বেশি হওয়ায় এমনিতেই অনেকে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে। যা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আয়োজকদের ছিল না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *