’মসজিদ-মাদরাসার নির্মাণকাজে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যায় না’
পাথেয় রিপোর্ট : মসজিদ-মাদরাসায় যাকাত দেওয়া জায়েয নেই মন্তব্য করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, মসজিদ মাদরাসায় যাকাত দেওয়া যাবে না। মসজিদ মাদরাসার নির্মাণ কাজে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে না। কারণ, যাকাত আদায় হওয়ার জন্য শর্ত হল, যাকাত উপযোক্ত কোন ব্যক্তিকে টাকার পূর্ণ মালিক বানিয়ে দেওয়া। যেহেতু মসজিদ-মাদরাসাতে এই শর্ত পাওয়া যায় না, তাই মসজিদ-মাদরাসায় যাকাত দেওয়া জায়েয নেই।
আল্লামা মাসঊদ বলেন, মাদরাসার তালিবুল ইলমদেরকে যাকাত দিলে ডবল সওয়াব। তালিবুল ইলমদের উদ্দেশ্যে মাদরাসায় টাকা দিলেও ডবল সওয়াব পাবে। একটি সওয়াব পাবে যাকাত আদায় করার জন্য অপরটি পাবে তালিবুল ইলমকে পড়া-লেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।
যাকাত গ্রহীতা সম্মানের পাত্র, অবহেলার পাত্র নয় উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের সমাজে যাকাত গ্রহীতাকে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা হয়। নগণ্য মানুষ মনে করা হয়। অথচ যাকাত গ্রহীতাকে সম্মানের পাত্র মনে করে ইসলাম। যাকাত আদায়কারী ব্যক্তির উচিৎ তাকে মর্যাদা দেয়া, সম্মানের চোখে দেখা। কারণ, যাকাত আদায় করা ফরজ। সে তোমার ফরজ আদায় করতে সহায়তা করেছে। আল্লাহর হাত থেকে মুক্ত করে দিয়েছে। সে যাকাত না নিলে তুমি অপরাধী হয়ে থাকতে। তিনি বলেন, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। যাকাত গ্রহীতা সম্মানের পাত্র, অবহেলার পাত্র নয়।
১৭ মে শুক্রবার রাজধানীর খিলগাঁও ইকরা বাংলাদেশ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে সাইয়্যিদ মাওলানা আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
মুমিনের সবকিছুই আল্লাহ জন্য হবে জানিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীবের শ্রেষ্ঠ বানিয়েছেন একমাত্র তার ইবাদতের জন্য। মানুষ একমাত্র আল্লাহর জন্য। মানুষের সবকিছুই আল্লাহর জন্য হবে। প্রকৃত মুমিন তো সেই যে নিজেকে আল্লাহর জন্য সোপর্দ করবে। তার সবকিছুই আল্লাহর জন্য হবে। আল্লাহ কেন্দ্রিক হবে।
হৃদয়ে আল্লাহকে ধারণ করলে কোন পেরেশানি থাকে না মন্তব্য করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, যাত্রাপথে একটা শিশু বাচ্চার সাথে যখন তার বাবা থাকেন, তখন ঐ শিশু সন্তানটার কোন টেনশন থাকে না। কিন্তু বাবা হারিয়ে গেলেই সে হয়রান হয়ে যায়, পেরেশানি শুরু হয়ে যায়। কান্না শুরু করবে। এমনিভাবে যে মানুষের অন্তরে আল্লাহ আছে, যে আল্লাহর জন্য কাজ করে, তার কেন পেরেশানি নেই। শুধু শান্তি আর শান্তি। কিন্তু যার হৃদয়ে আল্লাহ নেই বা হৃদয় থেকে আল্লাহকে হারিয়ে ফেলে। তার কেন শান্তি নেই, শুধুই পেরেশানি।
মাহে রমজানে পবিত্র কুরআন শরীফের তেলাওয়াত সবচেয়ে বড় নফল ইবাদত বলে জানিয়ে জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, রমজানের সঙ্গে কুরআনের সম্পর্ক সুগভীর। রমজান মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে। এ মাসে বেশি বেশি করে কুরআন তেলাওয়াত করতে হবে। কেউ তেলাওয়াত করতে না পারলে অন্যের তেলাওয়াত শুনবে।
রমজানকে হেলায় খেলায় নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, রমজান মাসকে আল্লাহ তাআলা সব মাসের সর্দার বানিয়েছেন। এ মাসে এত বেশী জান্নাতি রহমত-বরকত নাজিল হয়, মানুষ সারা বছরে তা অর্জন করতে পারে না। এ জন্যেই রমজানকে হেলায় খেলায় নষ্ট করা যাবে না। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে চারটি ইবাদত বেশী বেশী করতে বলেছেন।
১. অতীতের গুনাহের জন্য তাওবা।
২. বেশী বেশী কালেমা তাইয়্যিবা ও কালেমায়ে শাহাদাত পড়া।
৩. জান্নাত তালাশ করা ও
৪. জাহান্নাম থেকে পানাহ চাওয়া।
গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ


