মাওলানা ওলীপুরী সন্তানের বেদে মারিফত এবং অন্যান্য
যুবাইর বিন আরমান : ভেদে মারিফতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাওলানা কামরুল ইসলামের (সাহেবজাদায়ে ওলীপুরী) বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত।
প্রথম কথা হলো, চরমোনাইর কোনো মুরিদ এই বিশ্বাস রাখে না যে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জীবন দিতে পারে। অথচ বক্তা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করে এটিই তাদের আকিদা বলে প্রচার করে সমস্ত মুরিদদেরে মুশরিক বলে ফতওয়া দিয়েছেন। যা বক্তার অজ্ঞতার পরিচায়ক।
দ্বিতীয় কথা হলো, ভেদে মারিফতের সেই ঘটনাটির নিচে খোদ ভেদে মারিফতের টিকাতেই বলে দেওয়া আছে যে, এরুপ আকিদা রাখা যাবে না।
তৃতীয় কথা হলো, ভেদে মারিফত লিখেছেন মরহুম ইসহাক (রহঃ)। তিনি প্রতিটি ঘটনা অন্য বুজুর্গদের কিতাব থেকে নকল করেছেন মাত্র। মৃতকে জীবিত করার ঘটনাটি ইমাম গাযালী, রুমীসহ অনেকেই লিখেছেন। কাফের বললে তাঁদেরেও বলুন!
এখানে যে প্রশ্নটা উত্তাপিত হতে পারে তা হলো, এরুপ কাহিনী কেন প্রচার করা হয়?
প্রশ্নটির উত্তর অনেক দীর্ঘ।
সংক্ষেপে এটুকু বলি, এসব ঘটনা হলো, আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক কতো গভীরে পৌছাতে পারে, সেটিই বুঝানো উদ্দেশ্য। বান্দা যখন আল্লাহর বন্দেগীর নেশায় ডুবে যায় তখন সে আল্লাহর অস্তিত্বে নিজেকে হারিয়ে ফেলে।
হাদীসে এসেছে, অত:পর তার হাত আল্লাহর হাত হয়ে যায়। তাঁর পা আল্লাহর পা হয়ে যায়। তাঁর ইচ্ছাই আল্লাহর ইচ্ছা হয়ে যায়।
এরুপ পরিস্থিতি যখন বান্দার হয়ে যায়, তখন সে আল্লাহর সাথে রাগ অভিমান সবই করতে পারে। আল্লাহ পাক তাঁকে এতোটাই ভালোবাসেন যে, নিজের ইচ্ছাকে পরিত্যাগ করেও বান্দার কথা মেনে নেন। এটা পরাজয় বরণ নয়। এটা হলো, অধীনস্থের উপর বিশেষ অনুগ্রহ।
সবাই সব কথা মানতে চাইবে না। সবার বুঝ সমান নয়। তাই বিতর্ক করে লাভ নেই। তবে যারা আল্লামা থানভী বা ইমাম গাযালীকে বিশ্বস্ত মনে করেন, তারা ইমাম গাযালীর মাকাশাফাতুল কুলুব আর থানভীর পীর-মুরীদী বইটি মুতালা করতে পারেন। আশাকরি রহস্য উন্মোচিত হবে।
লেখক : সমাজ বিশ্লেষক
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়


