পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মাদকের বহুরূপ। ইয়াবা যেমন নিজের গতরের কালার বদলেছে। তেমনি বদলেছে মাদকের নামও। নতুন নতুন নামে এখন মাদক আসছে। মাদকের হুড়োহুড়ি। আগে শহরের মানুষের কাছে ইয়াবা বিক্রি হতো। এখন গ্রামেও সহজলভ্য হয়ে ওঠেছে এই মাদক।
একসময় গ্রামে চোলাই মদ পাওয়া যেতো সহজে। এখন অভিজাত শ্রেণির অনুসরণে গ্রামেও চলছে দামি দামি মাদকের পণ্য। পুলিশের অভিযান যে গ্রামের সাধারণ মানুষদের মধ্যে ঘাঁপটি মেরে থাকা মাদকব্যবসায়ীদের খোঁজে বের করবার চেষ্টা উচিত। অন্যথায় এই মাদকই ভয়ানক হয়ে দাঁড়াবে এ দেশের হাঁড় ভেঙে দিতে। তখন আর কিছুই করার থাকবে না।
বিস্ময়কর হলেও সত্য, ইয়াবার পর এবার খাত নামের আরেকটি ভয়ংকর মাদকদ্রব্য ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশে। মূলত আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আসা এই মাদকদ্রব্যটির নেশার ধরন অনেকটা ইয়াবারই মতো। গত তিন মাসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এর ১৩টি চালান ধরা পড়েছে। এসব চালানে আসা খাতের পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে চার হাজার কেজি।
সর্বশেষ চালানটি ধরা পড়ে গত শুক্রবার রাতে। ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা থেকে এশা এন্টারপ্রাইজের নামে আসা চালানটিতে ৮৬৮ কেজি খাত ছিল। পুলিশ এশা এন্টারপ্রাইজের মালিককে শনাক্ত করতে পারলেও তাঁকে ধরতে পারেনি। তিন মাসে সাড়ে চার হাজার কেজি খাত ধরা পড়লেও আরো কত হাজার কেজি খাত সংশ্লিষ্টদের চোখ এড়িয়ে ভেতরে ঢুকে গেছে তা-ই বা কে জানে!
মাদক শুধু তরুণসমাজকে ধ্বংস করে না, একটি দেশকেও ধ্বংস করে দিতে পারে। আফ্রিকা এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশই তার প্রমাণ। তিন মাসে ১৩ চালানে সাড়ে চার হাজার কেজি মাদক বিমানবন্দরে আটক হওয়া ছোটখাটো বিষয় নয়। শেষ চালানটি এসেছিল ভারত হয়ে। স্বাভাবিকভাবেই ধারণা করা যায়, বাংলাদেশে এই মাদক পাচারের জন্য স্থল ও জলপথও ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তাই তিন পথেই নজরদারি জোরদার করতে হবে। পথে পথে মাদকের এই চলমান প্রক্রিয়ায় নজরদারি বাড়াতে যে হবে তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই।
বাংলাদেশে মাদকের প্রবেশ ও বিস্তার রোধে ব্যর্থতা বা দুর্বলতার প্রধান কারণগুলো হচ্ছে সীমান্তে সঠিক নজরদারি না থাকা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর দুর্বলতা, দুর্নীতি বা এসব সংস্থার কিছু সদস্যের অনৈতিক সম্পৃক্ততা, বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা, আইনের অস্পষ্টতা এবং নানা কারণে অপরাধীদের ছাড় পেয়ে যাওয়া ইত্যাদিকে দুষছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংশোধিত আইনে অনেক বিষয়ই স্পষ্ট করা হয়েছে। দ্রুত বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এখন প্রয়োজন মাদক নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই আইনের কঠোর বাস্তবায়ন। মাদকের রাহুগ্রাসে স্তব্ধ একটি অসহায় বাংলাদেশ আমরা চাই না। প্রাণচঞ্চল এই লালসবুজের বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।


