মাদরাসার পাশাপাশি দ্বীনি স্কুল প্রতিষ্ঠা করাও সময়ের দাবী : সালমান মনসুরপুরী

মাদরাসার পাশাপাশি দ্বীনি স্কুল প্রতিষ্ঠা করাও সময়ের দাবী : সালমান মনসুরপুরী

পাথেয় রিপোর্ট : বর্তমান যুগে মাদরাসার পাশাপাশি দ্বীনি স্কুল প্রতিষ্ঠা করাও সময়ের দাবী বলে মন্তব্য করেছেন জামিআ কাসিমুল উলুম শাহী মুরাদাবাদের মুফতী ও উচ্চতর হাদীস বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক, আওলাদে রাসূল মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানীর খলিফা, মুফতী সাইয়্যিদ মুহাম্মদ সালমান মানসুরপুরি।

তিনি বলেন, বর্তমানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফেতনা একেবারে নিকটবর্তী হয়ে এসেছে। মানুষ লেখাপড়ার পাশাপাশি ইন্টারনেটের জগতের সাথে মিশে গিয়ে প্রচার, অপপ্রচার, সত্য, মিথ্যাকে একাকার করে নিয়েছে। এখন মানুষ অনেক অনির্ভরযোগ্য, অসত্য কথাকে বিশ্বাস করে নেয় এবং প্রচারও করে। আপনারা কোন বক্তব্যকে বিশ্বাস কিংবা প্রচারের আগে বর্ণনাকারী সম্পর্কে জেনে নিবেন। কোন বর্ণনাকারী সম্পর্কে আপনি অবগত না হলে তার কথাকে বিশ্বাস করবেন না। নতুবা বিভ্রান্ত কিংবা গোমরা হয়ে যেতে পারেন।

রোববার (১ ডিসেম্বর) বাদ ফজর সিলেট শহরের বালুচরস্থ জামিআ সিদ্দিকিয়ায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতী সাইয়্যিদ মুহাম্মদ সালমান মানসুরপুরি বলেন, দ্বীনি জ্ঞানের পাশাপাশি বর্তমান সময়ের জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কেও জানা জরুরি। তাই আমাদের মুর্শিদ ফিদায়ে মিল্লাত সায়্যিদ আসআদ আল মাদানী (রহ.) তাঁর সময়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দ্বীনি স্কুল প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্ব দিতেন। তিনি বলতেন, স্কুল শিক্ষার ব্যাপকতা বন্ধ কিংবা অস্বীকার করা যাবে না, তাই আমাদের উচিত সেদিকে গুরুত্ব দেয়া। তাঁর প্রচেষ্ঠায় সেই সময় ইউরোপ-আমেরিকা এবং উপমহাদেশে প্রচুর দ্বীনি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। আমি যতটুকু জেনেছি, আপনাদের জামিআ সিদ্দিকিয়াও সে রকমের একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি দুনিয়াবি শিক্ষা অর্থাৎ জাতীয় সেলেবাসও চালু রয়েছে।

এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য আগামী প্রজন্মকে দ্বীনের সাথে জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কে শিক্ষা দিয়ে দুনিয়া-আখেরাত সম্পর্কে সচেতন করা। সকল স্কুলকে মাদরসা করা যাবে না এবং সবাইকে মাদরাসায়ও এনে শিক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই জামিআ সিদ্দিকিয়ার মতো এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আরও প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন যেখানে পড়লে আপনাদের সন্তানদের দুনিয়াবি বিষয়াদিতে উন্নতি হবে এবং পাশাপাশি তারা হবে ইসলামী সংস্কৃতি ও নিয়ম-নীতির ধারক-বাহক এবং দ্বীনের দায়ী ও হেফাজতকারি। নতুবা আমাদের আগামী প্রজন্মের কাছে দ্বীন এবং ঈমান হুমকির সম্মুখিন হয়ে যাবে। আল্লাহপাক আমাদেরকে এবং আমাদের আগামী প্রজন্মকে সর্বপ্রকার ভ্রষ্টতা, অনৈক্য, ভুল চিন্তা, ভুল ধারণা থেকে রক্ষা করুন।

জামিআ সিদ্দিকিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি ও গবেষক সৈয়দ মবনু’র সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইংল্যান্ডের সান্ডারল্যান্ড জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব, খলিফায়ে শায়খে কৌড়িয়া (র.) হাফিজ মাওলানা সৈয়দ ইমাম উদ্দিন, ইকরা বাংলাদেশ আল মাদানি সিলেটের পরিচালক খলিফায়ে ফিদায়ে মিল্লাত মুফতি রশিদ আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জামিআ সিদ্দিকিয়ার পরিচালক মুফতি মনসুর আহমদ।

জামিআ সিদ্দিকিয়ার শিক্ষাসচিব মাওলানা আফতাবুজ্জামান হেলালের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে তেলাওয়াত করেন জামিআ সিদ্দিকিয়ার ছাত্র হাফিজ জুবায়ের আহমদ। নাশিদ পরিবেশন করেন জামিআর শিক্ষক মাওলানা আসআদ আল মামুন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *