মাদরাসায় আগুন লাগানো গণতন্ত্র ও ভারতবিরোধী : সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী

মাদরাসায় আগুন লাগানো গণতন্ত্র ও ভারতবিরোধী : সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মাদরাসায় আগুন লাগানো গণতন্ত্র ও ভারতবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গ গ্রন্থাগারমন্ত্রী এবং রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি মাদরাসায় গরুর গোশত থাকার সন্দেহে পাথর নিক্ষেপ ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে উগ্রপন্থিরা। ভাঙচুরের পর মাদরাসাটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। এই কাজ অত্যন্ত অন্যায়, গণতন্ত্র বিরোধী ও ভারতবিরোধী। এসব তারা (হিন্দুত্ববাদীরা) করবে। কিন্তু এসব করেও তারা টিকতে পারছে না। ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির জয় আছে। এটা অধর্মের কাজ। ধর্মনিরপেক্ষতার কাজ নয়।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিজেপি শাসিত ফতেপুর জেলায় এমন ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমসূত্রে জানা যায়, সোমবার ওই মাদরাসার পেছনের একটি জায়গায় গবাদি পশুর দেহাবশেষ পাওয়া যায়। এতে কিছু মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। কিন্তু মঙ্গলবার ফের একই জায়গায় গবাদিপশুর দেহাবশেষ পাওয়ায় উগ্রপন্থিরা মাদরাসায় ভাঙচুর চালিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পৌঁছে তাদেরকে সরিয়ে দেয়। ওই ঘটনার পরে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার রমেশ বলেন, সকালে বেহতা গ্রামে গরুর গোশত উদ্ধার হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ার পরে কিছু অরাজকতা সৃষ্টিকারী ব্যক্তি মাদরাসায় হামলা চালিয়ে পাথর নিক্ষেপসহ আগুন ধরানোর চেষ্টা করে। ওই ঘটনায় কোনও হতাহতের তথ্য নেই। তবে ওই ঘটনায় পুলিশের নিস্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন এলাকাবাসী।

এরআগে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গের রাজভবনে রাবেতায়ে মাদারিসে ইসলামিয়ার সংবাদিক সম্মেলনে মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরি বলেছেন, মাদরাসাগুলো ভারতের স্বাধীনতা ও দেশীয় ঐক্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মাদরাসাগুলো ভূমিকা ছিল। দেশপ্রেম সহিংসতা রক্ষার কথা মাদরাসাগুলোতে এখনও বলা হয়। তবে বর্তমানে ভারতে বিভিন্নভাবে মাদরাসাগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এরআগে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষণ রেড্ডি সংসদে নথি পেশ করে বলেছেন যে, পশ্চিমবাংলার মাদরাসাগুলোতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চলছে।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী তার বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, দুঃখের বিষয়, মাদ্রাসা শিক্ষা কী? এটি কেন দেওয়া হয়? কাদের দেওয়া হয়? এবিষয়ে কী তিনি কোন‌ও পড়াশোনা করেছেন? কখনও জানার চেষ্টা করেছেন?

তিনি বলেন, বলাবাহুল্য, সাড়ে ১৪০০ বছর পূর্বে মদিনা শরীফের মসজিদের চাতালে দয়ার মুহাম্মদ সা. তাঁর অনুসারীদের শিক্ষা প্রদান করতেন যা আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত ছিল। সাড়ে ১৪০০ বছরের সেই ধারা পৃথিবীজুড়ে বেসরকারি মাদরাসার মাধ্যমে অব্যাহত আছে। ১৫০ বছর ধরে দারুল উলূম দেওবন্দের দূরদর্শী চিন্তাভাবনার ফলে ভারতে অসংখ্য মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে এবং সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

পা.টো.ড/আদিল

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *