পাথেয় রিপোর্ট : কওমি মাদরাসায় কিছু জঙ্গি থাকলেও থাকতে পারে— কওমি মাদরাসা সম্মিলিত শিক্ষা বোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া সংবর্ধনা-শোকরানা মাহফিলে এ মন্তব্য করেছিলেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস।
তার এ মন্তব্য নিয়ে অস্বস্তিতে কওমি মাদরাসার শিক্ষক, ছাত্র ও অভিভাবকবৃন্দরা। পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমকে কয়েকজন তরুণ জানিয়েছেন তাদের অস্বস্তির কথা। নীচের তাদের মতামত তুলে ধরা হলো-
যাদের বক্তব্যের আগামাথা ঠিক থাকে না তাদের বড় পর্যায়ে কথা বলতে দেয়া উচিত নয় দাবি করে ,দক্ষিণ রাজাপুর ইমদাদুল উলুম কওমি মাদরাসার সভাপতি মণ্ডলির সদস্য, আলেম লেখক, কলামিস্ট মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ মাসউদ বলেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছিলেন, কওমি মাদরাসার ছাত্ররা জঙ্গি নয়। এদেশে কওমি মাদরাসায় কোন জঙ্গি নেই। কিন্তু তার পরেই মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস উনার বক্তব্যে বললেন ‘কওমি মাদরাসায় কিছু জঙ্গি থাকলেও থাকতে পারে৷
এ বক্তব্যে আমরা হতবাক। বিস্ময়ের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানেই সকল বাহিনী কাজ করে আর উনার তদন্তে যেহেতু জঙ্গি ধরা পড়েনি। তাহলে মাওলানা কুদ্দুস সাহেবের বক্তব্যের পর তো স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে তদন্ত করা উচিত। এই জঙ্গি কারা! কিছু জঙ্গি আছে-এ বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া উচিত। তার মাদরাসার ছাত্র, শিক্ষকদের কেউ এর সাথে জড়িত থাকলে এবং এদের চাপে এ জাতীয় বক্তব্য দিতে তিনি বাধ্য হয়ে থাকলে সেটাও আমাদের জানা দরকার।
একজন কওমি তালেবুল আলেমের অভিভাবক ও ব্যবসায়ী খালেদ হাসান তার খেদোক্তি প্রকাশ করে বলেন, যে জিনিসটা বর্তমান সরকার অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং স্পষ্টভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা-পর্যালোচনা ও তদন্ত সাপেক্ষে এ কথা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, কওমি মাদরাসায় জঙ্গিবাদের কোন তৎপরতা নেই। আর এটা এই শোকরানা মাহফিলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদের অন্যান্য সদস্য এবং সরকারি উচ্চ পদস্থ যে কর্মকর্তারা ছিলেন তারা খুব সুন্দরভাবে প্রকাশ করেছেন৷ কিন্তু এরপরেও বেফাক মহাসচিবের এমন বক্তব্য পুরো অবস্থাটাই ঘোলাটে করে দিয়েছে৷ তার এ বক্তব্য আমাদের নতুন করে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। যে কারণে আমি মনে করি, সাধারণভাবে কওমি আলেম উলামারা ব্যাপক অস্বস্তির মধ্যে আছেন এবং প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন।
অভিভাবক হিসেবে সমাজে নিজে ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ আছেন উল্লেখ করে খালেদ হাসান বলেন, আমরা সাধারণ জেনারেল শিক্ষিত যারা আছি তারা মনে করি এত বড় একটা পদে থেকে এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই উনি এমন বক্তব্য কীভাবে দেন। আমরা বোর্ড সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন জানাই, এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা থাকতে পারেন সে ব্যাপারে আরো ভালো করে বিবেচনা করা হোক। মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের এমন বক্তব্য আসলেই অত্যন্ত দুঃখজনক। তাছাড়া আমরা যারা আমাদের ছেলেমেয়েদের কওমি মাদরাসায় পড়াচ্ছি তারা অত্যন্ত চিন্তিত।
কওমি মাদরাসার একটি বোর্ডের মহাসচিব হয়ে এ ধরনের অবিবেচনামূলক বক্তব্য দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই উল্লেখ করে জাতীয় কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থী পরিষদের সভাপতি মাওলানা শেখ নাঈমুল ইসলাম বলেন, যেখান সরকার ও প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহল থেকে বলা হয় কওমি মাদরাসায় জঙ্গিবাদের কোনও সম্পৃত্ততা নেই। সেখানে উনি কওমি মাদরাসার একটি বোর্ডের মহাসচিব হয়ে এ ধরনের অবিবেচনামূলক বক্তব্য কীভাবে দেন? প্রথমত আমি একজন ছাত্র হিসাবে উনার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রতিবাদ জানাই। দ্বিতীয়ত আমি মনে করি, উনি উনার এ বক্তব্যের মাধ্যমে সমস্ত কওমি মাদরাসার ছাত্রদের মুখে চপেটাঘাত করেছেন।
সন্ত্রাস জঙ্গিবাদবিরোধী মানবকল্যাণে শান্তির ফতোয়ার কথা টেনে মাওলানা নাঈমুল ইসলাম বলেন, যেখানে আল্লামা ফরীদ উদ্দিন মাসঊদ সাহেবের নেতৃত্বে জঙ্গিবাদবিরোধী লক্ষ আলেমের স্বাক্ষর সম্বলিত ফতোয়া প্রকাশের পর দেশব্যাপী আলেমদের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদবিরোধী শক্ত অবস্থানকে মাওলানা আবদুল কুদ্দুস-এর বক্তব্যে তা নড়বড়ে করে দেয়ার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। আমার জানতে ইচ্ছে করে, উনি কীভাবে কী মনে করে এই তথ্য দিলেন? কী রহস্য আছে এতে?


