মাদরাসায় শহীদ মিনার না থাকা নিয়ে উদ্বেগ

মাদরাসায় শহীদ মিনার না থাকা নিয়ে উদ্বেগ

মাদরাসায় শহীদ মিনার না থাকা নিয়ে উদ্বেগ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : একুশ এলেই নিউজ হয়, পত্রিকার পাতায় সংবাদ হয় মাদরাসাগুলোতে নেই শহীদ মিনার। মাদরাসায় শহীদ মিনার না থাকা নিয়ে প্রকাশ করা হয় উদ্বেগ। মূলত মাদরাসাগুলো ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির চিন্তার বাইরে নয়। কওমী ও আলিয়ার সব মাদরাসায় ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব দেয়া হয়।

রাজধানীর একটি পত্রিকা প্রতিবেদন করেছে, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা। চট্টগ্রামের বড় মাদরাসাগুলোর একটি। ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসায় শিক্ষার্থী আছে ছয় হাজারেরও অধিক। দাখিল আলিম শ্রেণির পাঠদানের পাশাপাশি ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এখানে রয়েছে অনার্স সমমর্যাদার ফাজিল ও মাস্টার্স সমমর্যাদার কামিল ডিগ্রির পড়াশোনা।

শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন একাধিক ভবন। প্রতিবছর এখানে বিভিন্ন খাতে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। অথচ প্রতিষ্ঠার ৬৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এই প্রতিষ্ঠানে ভাষা শহীদদের স্মরণে স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী কোনো শহীদ মিনার গড়ে ওঠেনি।

শুধু জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা নয়। সরেজমিনে চট্টগ্রামের দারুল উলুম আলিয়া ও বায়তুশ শরফ কামিল মাদরাসাসহ একাধিক বড়-ছোট মাদরাসা ঘুরে দেখা মেলেনি কোনো শহীদ মিনার। প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার না থাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন হয় না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমপিভুক্ত এসব মাদরাসাগুলোতে শিক্ষকদের বেতন সরকারই প্রদান করে থাকে। এছাড়া ভবন নির্মাণসহ নানা খাতে সরকার খরচ করছে কোটি কোটি টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের সরকারিভাবে নির্দেশনা থাকলেও এখানে মানা হচ্ছে না নিয়ম। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে দায়সারা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয় মহান ভাষা দিবস।

আবার নগরের এসব মাদরাসা পরিচালনার দায়িত্বে আছেন সমাজের নামীদামী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিরা। এরপরও তারা দীর্ঘদিনে প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার তৈরি করতে পারেননি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। ১৯৫২ সালের পর ৬৯ বছরে এসে শহীদ মিনার নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

নগরের একটি মাদরাসার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্র নাজমুল কবির বলেন, ‘২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর দিন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানায়। তবে প্রতিবারের মতো এবারও সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবো।’

মুফতী আইয়ুবী পাথয়কে বলেন, মাদরাসায় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় কোনো বাধা নেই। কারণ এতে কোনো প্রাণীর ছবি পর্যন্ত নেই। এতে ফুল দেয়াটা বৈধ হওয়া নির্ভর করে নিয়তের উপর। তবে একটি দিনেই ভাষা শহীদদের মর্যাদার বিষয় সংযুক্ত করে দেয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, মাদরাসাগুলো প্রকৃতঅর্থে ভাষা শহীদদের রূহের মাগফেরাত কামনায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। কওমি মাদরাসাগুলোতে ভাষা শহীদদের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দুআ হয়। আরও আনুষ্ঠানিকতা বাড়ানো উচিত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *