মাহে রমাদানে মুমিনের কাম্য ও মনোবাসনা

মাহে রমাদানে মুমিনের কাম্য ও মনোবাসনা

মাহে রমাদানে মুমিনের কাম্য ও মনোবাসনা

কাজী আরশাদ হুসাইন : মাহে রমাদান হোক সুখময় সুরক্ষিত ও সুশোভিত। নিষ্কলুষ পংকিলতা মুক্ত প্রশান্তিময়। মহান স্রষ্টার একান্ত কৃপাদৃষ্টি নিবদ্ধ হোক স্বীয় মুখলেস বান্দার প্রতি। গড়ে উঠুক নব জীবন, বদলে যাক আঁধারে আচ্ছন্ন জীবন যাত্রার পথ। ঈমানের অমৃত স্বাদে ফিরে পাক হবে তাজা প্রাণ, হিংসা বিদ্বেষ ছেড়ে বনে যাই মোরা ভাই ভাই।

দূর হোক যতসব ভ্রান্তির ধুম্রজাল, বেজাতির সাংস্কৃতি ও খোঁড়া শয়তানের অশুভ শক্তির আস্ফালন। ক্লান্তি শ্রান্তির অবসানে মন ভরে উঠুক অনুগ্রহ বারিধারায়। যান্ত্রিকতার জ্বালামুখ নির্বাপিত হয়ে ফিরে আসুক চির শান্তির সুখ। বংশীয় কুলীনত্ব মুছে গিয়ে এক সারিতে জমে যাই সকলে। অনৈক্যের বন্ধন ছিঁড়ে মিলিত হয় ঐক্যের মিছিলে। মাগফিরাতের সু প্রত্যাশায় পূর্ণ হোক মুমিনের দিবারাত্র। নাজাতের ওসিলায় স্থিত হোক পাপীর জ্বালাময়ী অন্তর ।

আপনা সবাই জানেন, মাসের সুমহান মর্যাদা ও গুরুত্ব রয়েছে। আরবি বর্ষের বারোটি মাস থাকতে স্রষ্টা কেন আমাদের জন্য এ মাসটি নির্ধারণ করলেন? কি আছে এ মাসে ? কেন শ্রেষ্ঠ এ মাস-

১। সকল ধর্মের মূল উৎস ও ভিত্তির মাঝে অন্যতম উৎস হলো সে ধর্ম বিষয়ক রচিত গ্রন্থ বলি যা পাঠ করে সে ধর্ম অনুসারী তার ধর্ম পালন করবে। এমনিভাবে খোদার সত্য ধর্মের ও অনেক আসমানী কিতাবাদি রয়েছে যেমন তাওরাত যাবুর ইঞ্জিল এবং মহাগ্রন্হ আল কুরআন ও অন্যান্য ছহীফা সমূহ এসকল আসমানী কিতাব নাজিল করা হয় এমাসে।

মুসনাদে আহমাদ গ্রন্থে হযরত ওয়াসেলা ইবনে আসকা রা: কর্তৃক বর্ণিত এক রেওয়ায়েত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে রমাদানের এক তারিখে হযরত ইব্রাহিম আ. এর প্রতি ছহীফা নাজিল করা হয়, ছয় তারিখে তাওরাত, তেরো তারিখে ইঞ্জিল, চব্বিশ তারিখে পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়।

এছাড়া হযরত জাবের রা: থেকে বর্ণিত আরেক রেওয়ায়াত তিনি বলেন রমাদানের বারো তারিখে যাবুর ও আঠারো তারিখে ইঞ্জিল অবতীর্ণ করা হয়।

২। আর এ মাসে এমন এক রজনী গচ্ছিত রাখা হয়েছে যে রজনীতে পবিত্র কুরআন নাজিলের সূচনা হয় এবং যে রাতের ইবাদাত সৃষ্টি কর্তার নিকটে সহস্র মাসের ইবাদাত থেকে উত্তম। এ রজনী লাইলাতুল কদর হিসেবে পরিচিত। যেমন ইরশাদ হয়েছে কুরআনে ليلة القدر خير من ألف شهر

৩। এ মাসে কোন বান্দা যদি একটা নফল আদায় করে কেমন যেন সে অন্য মাসে একটা ফরজ পালন করল। আর যে একটা ফরজ আদায় করল এ মাসে তার সাওয়াব অন্য মাসের তুলনায় সাতাশ গুন বৃদ্ধি পায়।

৪। ইবলিস শয়তান কে শিকলে আবদ্ধ করে রাখা হয়।

৫। সিয়াম পালনকারীর প্রতিও আল্লাহ তায়ালার বিশেষ করুনা ও অনুগ্রহের দৃষ্টি থাকে এবং তার প্রার্থনাও কবুল করা হয়। হাদিসে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইফতারের সময় সিয়াম পালনকারীর দুআ কবুল হয়।

এছাড়া আরও অনন্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে গঠিত এ মাস যা বর্ণনাতীত। এত মর্যাদায় পূর্ণ হওয়া স্বত্বেও এ মাসে যে প্রাণে ইবাদাতের স্পৃহা জাগে না বড়ই পরিতাপ সে প্রাণের। হতভাগ্য সে জন যার রমাদান মাস পার হয়ে যায় কিন্তু সে উদাসীনতার দরুন আপন পাপ থেকে তাওবা করে নিষ্কৃতি লাভ করতে পারে না। এরূপ ব্যক্তির প্রতি ধ্বংসের বদ দোয়া আছে। আমরা যেন এই মহিমান্বিত মাস আল্লাহর ইবাদত করে কাটাতে পারি, সবার কাছে এই কামনা করি। আমিন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *