মা-বাবাকে নিয়ে একটু ভাবুন

মা-বাবাকে নিয়ে একটু ভাবুন

মা-বাবাকে নিয়ে একটু ভাবুন

মুফতী রিয়াজুল ইসলাম : সন্তানকে ন্যূনতম ভদ্রতা শিক্ষা দেয়া আপনার দায়িত্ব। সন্তানকে অন্তত এতটুকু শিষ্টাচার শিক্ষা দিন, যেন সে নিজের ক্যারিয়ারের চেয়ে আপনার টেক কেয়ারকে গুরুত্ব দেয়। নিজের প্রয়োজন থেকে আপনার প্রয়োজনকে প্রাধান্য দেয়।

এখন আর সেই যুগ নাই যে, বাচ্চারা স্কুল টিচার থেকে আদব আখলাক শিখবে। বরং এখন বাচ্চাদের বলে দেয়া উচিৎ যে, স্কুল টিচারের কাছ থেকে শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাটুকু শিখবে।অন্যকিছু শিখবে না।

কিছু মানুষকে দেখে বিস্ময় কাটে না আমার। সন্তান কিভাবে মা বাবার সাথে খারাপ আচরণ করে! মা বাবার প্রয়োজনকে কিভাবে ছোট করে দেখে!

একটু চিন্তা করুন তো। আপনার বাবা যদি চিন্তা করতেন বাচ্চা নিলে তার প্রিয়তম স্ত্রীর বডি ফিগার নষ্ট হয়ে যাবে। তাহলে আপনার অস্তিত্ব কোথায় থাকতো?! রক্ত পানি করে কামাই করা টাকা আপনার উচ্চশিক্ষার জন্য খরচ না করে যদি সঞ্চয় করতেন, তাহলে আপনার বসগিরি কোথা থেকে আসতো?!

আপনার মা যদি চিন্তা করতেন, বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ালে তার সৌন্দর্য লোপ পাবে। তাহলে আপনার ব্রিলিয়ান্টগিরি কোথা থেকে আসতো?! মা যদি নিজেকে তিলে তিলে ক্ষয় করে আপনাকে গড়ে না তুলতেন, তাহলে আপনার অষ্টমুখি প্রতিভা কীভাবে হত।

বিস্ময়কর। আজকাল উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিতরা মা বাবার খোঁজখবর রাখে না। নিজের ক্যারিয়ার, নিজের স্ত্রী, সন্তান নিয়েই ব্যস্ত। মা বাবাকে নিজের সার্কেলের জন্য লজ্জাজনক মনে করে।

প্রিয় ভাই, বিশ্বজাহান ঘুরে অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকন করেছেন। এবার একটু কষ্ট করে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখুন। সময় করে আপনার পাশের কোনো এতিম খানায় যান। দেখুন তাদের মলিন চেহারা। দশজাহান একত্র করে তাদের হাতে দিলেও মা বাবা না থাকার কষ্ট তারা ভুলবে না।

আমি একজন দ্বীনি ভাইকে চিনি। যিনি জন্মের পর বাবাকে হারিয়েছেন। কবরস্থানে কোথাও তাঁর বাবার কবরের চিহ্নটুকু নাই। তবুও মাঝেমধ্যে কবরস্থানে গিয়ে বাবার অস্তিত্বের স্বাদ নেয়ার চেষ্টা করেন।

প্রিয় বন্ধু!

শরয়ী বিধানের কথা না হয় বাদই দিলাম। নিজের ভবিষ্যতের জন্য হলেও মা বাবার টেক কেয়ার করুন। তারা যেন আপনার কারণে একবারও “উহ” শব্দ না বলে। নতুবা আপনার বার্ধক্যে এই এক “উহ” হাজার “উহ” হয়ে ফিরে আসবে।

মুমিন ধোঁকা দেয় না

আমাদের একটু সচেতক হওয়া জরুরি। প্রকৃত মোমিন তো সেই যে নিজে ধোকা দেয় না এবং ধোঁকায় নিপতিতও হয় না। ইসলামের শত্রুরা বিভিন্নভাবে মুসলমানদের প্রতারিত করতে চায়। প্রকাশ্যে গোপনে নানা ফন্দিফিকিরে।

বেশ কিছুদিন একটা ট্রল অনলাইনে দেখছি। তাহল ‌’মেয়েরা জিন্স পড়লে সন্তান হিজড়া হয়’ অনেকে এটাকে ইসলামি অনুশাসন না মানার শাস্তি হিসেবে দাড় করাচ্ছেন। অথচ একথা কোনো ভিত্তি নাই।

নিঃসন্দেহে পর্দা একটি ফরজ বিধান। প্রত্যেকের জন্য তা মানা ফরজ। কিন্তু কুরআন হাদিসে নেই এমন জিনিস ইসলামে প্রবেশ করানো গর্হিত কাজ।

নিচের হাদিসটি পড়ুন। চিন্তা করুন।

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহুদীগণ বলত, কেউ যদি পিছন দিক হতে স্ত্রীর যৌনাঙ্গে সঙ্গম করে তাহলে সন্তান ট্যারা বা টেগ্রা হয়। এমতাবস্থায় কুরআন মাজীদের এ আয়াত নাযিল হয়, অর্থাৎ- ‘তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র, তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা যেতে পার’। (সূরা আল বাকারা ২ : ২২৩)। (বুখারী ও মুসলিম)
লেখক : শিক্ষক ও গবেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *