রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন
মিয়ানমারকেই সংকট উত্তরণে এগিয়ে আসা উচিত
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমার নিজেরাই সৃষ্টি করেছেন বলে জাতিসংঘে এ কনভারসেশন উইথ অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা-শীর্ষক ইন্টারঅ্যাকটিভ সংলাপ অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের শিরোনাম ছিল, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি- শেখ হাসিনা’। এই সত্য ও বাস্তব কথাটাই মিয়ানমার সরকার বুঝতে সক্ষম হচ্ছে না। আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টির জন্যই প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে জাতিসংঘে উপস্থাপন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফ সাফ বলে দিয়েছেন রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের, সমাধানও আসতে হবে সেখান থেকে। এটিকে রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেছেন এ সমস্যার মূল মিয়ানমারে গভীরভাবে প্রোথিত। অতএব সংকটের সমাধান মিয়ানমারের ভিতরেই খুঁজে পেতে হবে। জাতিসংঘ সদর দফতরে বাংলাদেশ ও ইসলামী সহযোগী সংস্থার যৌথ আয়োজনে ‘রোহিঙ্গা ক্রাইসিস : এ ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রাসঙ্গিকতার দাবিদার।
তিনি উল্লেখ করেন রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলমান অধিবেশনে চার দফা প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। এর আগে সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনেও তিনি রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। তাতে কফি আনান কমিশনের সুপারিশগুলোর পরিপূর্ণ বাস্তবায়নসহ রাখাইন রাজ্যে একটি বেসামরিক নিরাপদ পর্যবেক্ষণ এলাকা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও ছিল। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, রোহিঙ্গা সমস্যার কোনো সমাধান ছাড়াই আমরা আরও একটি বছর পার করে দিয়েছি।
মিয়ানমারের উত্তর রাখাইন রাজ্যে নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মৌলিক প্রয়োজনগুলো মেটাতে ও তাদের দেশে ফেরত না যাওয়া অবধি সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে প্রথম থেকেই প্রতিবেশী মিয়ানমারের শুভবুদ্ধি উদয়ের চেষ্টা করছে। এ সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ প্রথম থেকেই এমন একটি পথ অনুসন্ধানের ওপর জোর দিচ্ছে যাতে রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। পক্ষান্তরে মিয়ানমারের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বও সংরক্ষিত থাকবে। বাইরের কোনো উসকানিতে বাংলাদেশ সাড়া দেয়নি, যা সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণেরই পরিচয়।
এশিয়ার এই অঞ্চলে জঙ্গিবাদের উত্থান ও বাইরের হস্তক্ষেপ না চাইলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারকে আন্তরিক হতে হবে। এ সমস্যা বাংলাদেশের পরিবেশের জন্য বিপর্যয় ডেকে এনেছে। আমরা সর্বৈব দেখতে পাচ্ছি, অর্থনীতির জন্য বাড়তি ১০ লাখ লোকের চাপ হুমকি সৃষ্টি করছে। আমরা মনে করি, মিয়ানমারের উচিত বাংলাদেশ এ সমস্যার সমাধানে সুপ্রতিবেশীসুলভ দায়িত্বশীলতার যে পরিচয় দিয়েছে তাতে সাড়া দেওয়া।


