পাথেয় রিপোর্ট : অন্য সবার সঙ্গে দেশের আলেমগণও মুক্তিযুদ্ধে অবদান রখেছেন বলে অভিমত জানিয়ে আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরামের আহ্বায়ক মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন বলেন, একটি নতুন বাংলাদেশের জন্য লড়াইয়ে ঈমানদার মানুষেরাই বেশি অবদান রেখেছেন। শাহাদাত লাভ করেছেন মুসলমানদের মধ্যেই অনেক বেশি মানুষ। অনেক আলেমও শাহাদত লাভ করেছেন।
জামাতিচক্র মুক্তিযুদ্ধে অপরাধ করে আলেমদের উপর চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করছিল দাবি করে মাওলানা মাকনুন বলেন, দেশে কোনো কওমি মাদরাসার আলেম যোদ্ধাপরাধী নেই। খুন-ধর্ষণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। রাজাকার, আলবদর, আল শামস মূলত জামাতি-মওদুদীদের দ্বারাই গঠিত হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কদমতলীর আল কারীম তালীমুল কুরআন মিলনায়তনে প্রধান অতিথির আলোচনায় মাওলানা মাকনুন এসব কথা বলেন।
সভাপতির আলোচনায় আল কারীম তালীমুল কুরআন মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ইহতেশামুল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধে একজন সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.কে বাংলাদেশের মানুষ কখনোই ভুলতে পারবে না। বাংলাদেশের মুক্তির জন্য হযরত আসআদ মাদানী রহ. ভারতে ঘুরে ঘুরে জনমত তৈরি করেছিলেন। ইন্দিরাগান্ধী বাধ্য হয়েছিলেন বাংলাদেশের দাঁড়ানোর জন্য।
মাওলানা ইহতেশাম দুঃখ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আলেমদের অবদান আজ ভুলে গেছি। আলেমগণ সবসময় মানবতার পক্ষে ছিলেন। ইংরেজ বিতারণে আলেমদের ত্যাগ-ভূমিকা ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে।
আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরামের কার্যক্রমকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মাসিক পাথেয়র নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা মাসউদুল কাদির বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে আলেমদের রক্তও আছে জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অনেক আলেমও শাহাদাত লাভ করেছেন। জামিআ ইসলামিয়া পটিয়া ও জামিআ মাদানিয়া যাত্রাবাড়িতে পাকিস্তানীরা বোমাও ফেলেছে।
আলেমদের অবদানের কথা জাতির সামনে তুলে ধরার দাবি জানান তিনি।
আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরামের সদস্য সচিব লেখক আনোয়ার আবদুল্লাহ বলেন, একটা শ্রেণি মুসলমানদের দাঁড়িটুপিকে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড় করাবার চেষ্টা করছে। আলেমদের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হলে ঈমানদার মোমিনের অবদানই মুক্তিযুদ্ধে বেশি প্রমাণিত হবে।
আইনজীবী রাশেদুল আলম মোল্লা বলেন, লালসবুজের এই যে পতাকা- এই পতাকাকে আমাদের ভালোবাসতে হবে। দেশের প্রতি মমতার কথা গোপন রাখার জিনিস নয়। মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থী ও উপস্থিতিকে বাংলাদেশের ভালোবাসাকে বুকে ধারণের আহ্বান জানান।
মাওলানা নিজামুদ্দী মিসবাহ বলেন, ইংরেজ খেদাও আন্দোলনে আলেমদের অবদানের কথা আমরা জানি। ইংরেজ না গেলে পাকিস্তানও হতো না, বাংলাদেশও হতো না। আজকে একশ্রেণির লোকেরা আলেমউলামাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। মুক্তিযোদ্ধ ফোরাম কাজ করতে থাকলে ইনশাআল্লাহ মানুষের হৃদয়ে নতুন কিছু এঁকে দেয়া সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মাওরানা নাঈমুল ইসলাম।


