পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দীর্ঘ দুই বছরের উপরে কারাবন্দি থাকবার পর সরকারের সিদ্ধান্তে অবশেষে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) একটি সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
তিনি জানান, বয়স বিবেচনায় সদয় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকার খালেদা জিয়ার মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৬ ধারায় তার সাজা ছয় মাস স্থগিত করা হয়েছে। ছয়মাসের জন্য তার সাজা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দুইটি শর্তে তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে বলে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন। সেগুলো হলো, এই সময়ে তাঁর ঢাকায় নিজের বাসায় থাকতে হবে এবং তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।
তিনি বলেন, ”ঢাকাস্থ নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করার শর্তে এবং এই সময় বিদেশে গমন না করার শর্তে তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য আমি মতামত দিয়েছি। সেই মতামত এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে গেছে।”
”মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ হচ্ছে, আইনি প্রক্রিয়ায় এই দুই শর্তসাপেক্ষে তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য।” তিনি বলেন। যখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হবে, তখন থেকে এই ছয়মাস গণনা শুরু হবে।
বর্তমানে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা বিচারাধীন থাকলেও কারামুক্তিতে বাধা ছিল জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা।
সর্বশেষ গত ১২ ডিসেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সম্প্রতি খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে।
সোমবার (২৩ মার্চ) কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ৭৫ বছর বয়সোর্ধ্ব খালেদা জিয়ার শিগগির মুক্তি দাবি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।
তিনি বলেন, কারাবন্দি এবং বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবন আজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কেননা বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে শত শত ডাক্তার এবং নার্স যেখানে প্রতিনিয়ত সুরক্ষা সরঞ্জামাদি ছাড়া কাজ করছেন এবং হাজার হাজার রোগীর চিকিৎসা করছেন। তারা আবার খালেদা জিয়ারও চিকিৎসা করছেন। সুতরাং যেকোনো সময় প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। যা আল্লাহ না করুক ডাক্তার, নার্সসহ খালেদা জিয়ার জীবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ করতে পারে। মারাত্মক ঝুঁকি বিবেচনায় বিভিন্ন দেশ কারাবন্দিদের মুক্তি দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থয় খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষার্থে শিগগির তার মুক্তি দাবি করছি।
মাহবুব উদ্দিন খোকনের এমন বক্তব্যের ঠিক একদিন পরেই সরকারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা জানানো হলো।
এই ছয়মাস পরে কী হবে, জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ”আগে তো ছয়মাস যাক, তার পরে দেখা যাবে। এখানে বলা হয়নি যে, তিনি হাসপাতালে গিয়ে তাঁর চিকিৎসা নিতে পারবেন না। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তির ব্যাপারে তার কন্ডিশন অনুযায়ী দেখা যাবে।”
এই ঘোষণার পর বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ”সরকারের দিক থেকে কী বলা হচ্ছে, তা নিয়ে আমরা এখনো পরিষ্কার নই। এ নিয়ে আমরা নিজেরা আলোচনা করে আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাবো।”
এর আগে বিদেশে চিকিৎসার জন্য মুক্তি চেয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছিল তাঁর পরিবার। খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলামবলেছিলেন, তারা তাদের চিঠিতে প্যারোলের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু লেখেননি। একইসাথে তিনি উল্লেখ করেছেন, এখন তাঁর বোনের জীবন বাঁচাতে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হলেও তাদের পরিবারের সদস্যদের কোনো আপত্তি থাকবে না।
তবে পরিবারের অন্য একটি সূত্র এবং সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের চিঠিতে মানবিক কারণে সরকারের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। তার মধ্যে গত ১১মাস ধরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
২০০৮ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মামলা দায়ের হয়। দশ বছর পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারীতে মামলার রায়ে তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়।
তবে পরে হাইকোর্ট সেই সাজা বাড়িয়ে দশ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।


