পাথেয় রিপোর্ট : অাধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচরে দুই পক্ষের টেটাযুদ্ধে উভয় পক্ষের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সে সময় ১০ জন টেটা বিদ্ধসহ অন্তত ২৪ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কিছু বাড়িঘর ভাংচুর হয়েছে। টেটাবিদ্ধ ৯ জনকে গুরুতর আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নুরু বাউল ও নাছির মোল্লা গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই। দু’পক্ষের লোকজনই এ বিরোধ পুষে আসছিলো। এর আগে এই বিরোধের জের ধরে গত ২০ আগস্ট নাসির মোল্লা গ্রুপের তকবির মোল্লা নামে এক সমর্থক টেটা বিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় সেই সময় আওলাদ মোল্লা বাদী হয়ে ৬০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। হত্যা মামলার ৩৪ জন আসামি গ্রেফতার হলেও গত ১৯ অক্টোবর ২৭ জন আসামি জামিন পেয়ে যায়। ওই দিন সন্ধ্যায় তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয়। অপরপক্ষকে আতঙ্কিত করতেই তাদের এ মহড়া ছিলো বলে জানায় এলাকাবাসী।
ঘটনায় আহতরা হলো, মিলন (৩০), আসাদ মোল্লা (৪৫), জামাল মোল্লা (৫০), মাসুম (৪০), খোকন সরকার (৪৫), আক্তার মুন্সী (২৮), জাকারিয়া (২২), আক্তার মোল্লা (২৮), মজিবর মুন্সী (৫৫) এবং মোক্তার হোসেন। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় নুরু বাউল গ্রুপ ও নাছির মোল্লা গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। পর্যায়ক্রমে ৪/৫ টি গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংর্ঘষ ছড়িয়ে পরে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এভাবেই চলছিলো। টানা দুই দিন উত্তেনাজনার পর ২২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে টেটাযুদ্ধ শুরু হয়। খবর পেয়ে সিরাজদিখান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় শ্রীনগর ও টঙ্গীবাড়ি থানা পুলিশের সাহায্য নেয় তারা। এ সময় ২ জনকে আটক করা হয় এবং ৫ শতাধিক টেটা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সিরাজদিখান সার্কেল সিনিয়র এএসপি আসাদুজ্জামান জানান, সিরাজদিখান, শ্রীনগর ও টঙ্গীবাড়ি থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন আছে। দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ সমস্যা তাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকে চলছে।


