পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিতর্কের মুখে পদ হারানো সদ্যসাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তার স্ত্রী ডা. জাহানারা এহসান। আজ বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) বিকাল পাঁচটার দিকে ধানমন্ডি মডেল থানায় তিনি এই জিডি করেন।
ডা. জাহানারা এহসান লিখেছেন, ১৯ বছরের বিবাহিত জীবনে তাদের ১৬ বছরের একটি মেয়ে এবং ১১ বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কারণে অকারণে আমাকে এবং সন্তানদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করিয়া আসিতেছে। এবং হত্যার হুমকিও প্রদান করিয়া আসিতেছে।
বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৩টার দিকে মুরাদ আবারও ‘গালিগালাজ করে মারতে উদ্যত হলে’ ৯৯৯ এ ফোন করে সাহায্য চান জানিয়ে জাহানারা জিডিতে বলেছেন, ওই ফোন পেয়ে পুলিশ বাসায় গেছে তার স্বামী বাসা থেকে বেরিয়ে যান।
এ অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকার কথা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন,মুরাদ যে কোনো সময় তার এবং তার সন্তানদের ‘ক্ষতি করতে পারেন’ বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
ধানমন্ডি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরের মাধ্যমে আমরা অভিযোগ পাই যে, ধানমন্ডির বাসায় সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তার স্ত্রী ডা. জাহানারা এহসান। পরে আমি নিজে ফোর্সসহ ওই বাসায় যাই। এ সময় ডা. জাহানারা এহসান তার স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেন।
ডা. মুরাদের অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি জানিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, এক চিত্রনায়িকাকে টেলিফোনে হুমকি আর অশালীন বক্তব্যের ভিডিও ফাঁস হলে গত ডিসেম্বরে প্রতিমন্ত্রীর পদ হারাতে হয় মুরাদ হাসানকে। জামালপুর আওয়ামী লীগের পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয় স্থানীয় এই এমপিকে।
নানা নাটকীয়তার মধ্যে ৯ ডিসেম্বর রাতে কানাডার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন মুরাদ। কিন্তু কানাডায় কিংবা আরব আমিরাতে ঢুকতে না পেরে দুদিন পর তাকে ফের দেশে ফিরতে হয়। এরপর থেকে তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন।


