মুসলমানদের ভোট পেতে মসজিদে মসজিদে ঘুরছেন মোদি!

মুসলমানদের ভোট পেতে মসজিদে মসজিদে ঘুরছেন মোদি!

পাথেয় রিপোর্ট : ভারতে এখন রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচন যত সামনের দিকে এগিয়ে আসছে ততই ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি নিজের নিজের ভোট ব্যাংক গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তাদের ব্যতিক্রম নয়। তিনিও লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের কাছে ঘুরছেন। এমনকি নির্বাচনে মুসলমানদের ভোট পেতে মসজিদে মসজিদে ঘুরছেন হিন্দুবাদী কট্টরপন্থী এই নেতা।

পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটের সংসদ সদস্য ইদ্রিস আলী ভারতের একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোটের সিংহভাগ পেয়ে থাকে তৃণমূল। এবার সেই ভোটে ভাগ বসাতে মোদি চালাকির আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু মুসলিমদের একটিও ভোট বিজেপি পাবে না। মুসলিমরা চেনে কে বন্ধু কে শত্রু।

ইদ্রিস আলি বলেন, নরেন্দ্র মোদি একসময় সবার সামনে মুসলিমদের টুপি পরতে চাননি আর এখন তিনি মসজিদে মসজিদে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এসব চালাকি মুসলিমরা বোঝে। এভাবে উনি সংখ্যালঘুদের ভোট পাবেন না। পুরো বাংলায় বিজেপি অশান্তি ছড়াতে চাইছে। হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে অশান্তি-বিভেদ ছড়াচ্ছে তারা। মুসলমানদের ভোট পেতে মসজিদে মসজিদে যাওয়ার ঘটনায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো মনে করছে হয়তো বা তার জন্যেই পিএম মোদি প্রথমবারের মতো কোনো মসজিদ উদ্বোধনে যাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

চলতি মাসের ১৪ তারিখ বোহরা মুসলিম সমাজের ধর্মগুরু সাইয়াদেনা আলীকদর সাইফুদ্দিনের আমন্ত্রণে ইন্দোরে একটি মসজিদ উদ্বোধন যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মুসলিম সমাজের ভেতর একমাত্র বোহরা সম্প্রদায়কেই নরেন্দ্র মোদি মাঝেমধ্যে প্রশংসা করে থাকেন।

এর কিছুদিন আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মধ্য প্রদেশের ইন্দোর শহরের সাইফি মসজিদে গিয়েছিলেন। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে ভারতজুড়ে। এতে বিশেষ ভাবে রুষ্ট হয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

খবরে বলা হয়, মোদি মসজিদে তার বক্তৃতায় ইমাম হোসেন রা.-এর জন্য প্রার্থনা করেন। তিনি শান্তি ও ন্যায় বিচারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সমালোচকরা বলছেন, ভোটের জন্যই দাউদি বোহরা সম্প্রদায়ের ওই মসজিদে গিয়ে ইসলামের ত্যাগ ও শান্তির বার্তা দিয়েছিলেন মোদি। এ ঘটনার দু’দিন পর বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক সচিব মিলিন্দ পারান্দে বলেন, জানি না প্রধানমন্ত্রী কী ভেবে মসজিদে গেলেন, ওনার কী হয়েছিল। ওনাকে বিষয়টা জিজ্ঞেস করতে চাই। তিনি বলেন, প্রত্যেকেরই উচিত নিজের ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী আচরণ করা। ভারতে যদি কাউকে রাজনীতিতে থাকতে হয় তাহলে তাকে হিন্দুদের কথা ভাবতেই হবে, সে যে রাজনৈতিক দলেরই হোক।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দাবি, ভারতে রাজনীতি করতে হলে আগে হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। অন্য কোনো ধর্মের কথা ভাবার আগে হিন্দুদের কথা মোদির ভাবা উচিত ছিল।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *