পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম (মুরাদাবাদ) : ‘হক্কুল ইবাদ’ কি! মানবজীবনে এর গুরুত্ব ও প্রয়োজন কতোটা এ সম্পর্কে জানিয়েছেন জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি ও দারুল উলুম দেওবন্দের উস্তাযুল হাদীস মাওলানা সাইয়্যেদ কারী উসমান মানসুরপুরি।
১৬ নভেম্বর ভারতের মুরাদাবাদ ইবরাহিমি মসজিদে ‘খুতবাতে সীরাত’ শীর্ষক এক প্রোগ্রামে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা রাখেন তিনি।
হক্কুল ইবাদ সম্পর্কে আলোচনায় মাওলানা উসমান বলেন, আল্লাহ তায়ালার দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া যে মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের মানুষরূপে সৃষ্টি করেছেন। আমরা মুসলমান এবং পেয়ারে হাবীব রাসূল সা-এর উম্মত। আর মানুষই হলো সৃষ্টিজীবের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। এজন্য মানুষকে বলা হয় সৃষ্টির সেরা জীব। তাই প্রত্যেকেটি মানুষের কর্তব্য হলো সে হুকুকুল ইবাদের প্রতি তার খেয়াল রাখবে এবং তা পুঙ্খানুপুঙ্খ আদায় করে নিজের জীবন অতিবাহিত করবে।
পিতা মাতারর সমস্ত হক আদায় করবে, অর্থাৎ তাদের সম্মান করবে এবং প্রয়োজনীয় সব কিছুর খেয়াল রাখবে। কখনোই তাদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলবে না। কটু কথা বলবে না। তাদের মনে সামান্য আঘাত দিবে না। নিকটাত্মীয় ও বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক সুন্দর ও সুদৃঢ় করবে।
দুস্থ, দরিদ্র এবং পীড়িত লোকদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখবে। এননিভাবেই সদা সর্বদা নিজের প্রতিবেশীর খোঁজ খবর নেবে। এসব হক আদায়ের সাথে নিজের সন্তানদের সঠিক শিক্ষা ও তরবিয়ত দিয়ে গড়ে তোলবার জন্য হালাল পথে উপার্জন এবং সে উপার্জন দিয়ে তাদের সার্বিকভাবে গড়েপিটে মানুষ করাও পিতামাতার দায়িত্ব। তাদের উপর সন্তানের হক।
স্ত্রীর সঙ্গে সদাচারণ। সুন্দর, সুমিষ্ট ব্যবহার করবে। কেনরকম তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে না৷ অসভ্য ভাষা প্রয়োগ থেকে সদা বিরত থাকবে। এটাও একজন স্ত্রীর হক তার স্বামীর কাছে। যে মানবে সে হক আদায় করবে।
তেমনিভাবে কোরআন তেলাওয়াত, নামাজ, এবং সমস্ত ইবাদাতের পাবন্দি করা এবং নিজের পরিচিতজনদের ও এই পথে আনার প্রচেষ্টা প্রত্যেক মানুষের উপরই আবশ্যক। যে ব্যক্তি সঠিকভাবে ‘হুকুকুল ইবাদ’কে আদায় করলো না, তার মুক্তি সম্ভব নয়। অতএব আমাদের সকলেরই উচিৎ আমরা হুকুকুল ইবাদ ঠিকঠাক আদায় করবো।
অনুষ্ঠানে কারী উসমান মানসুরপুরির সাথে উপস্থিত ছিলেন জামিয়া মাদরাসা কাসেমীয়া শাহি মুরাদাবাদের উস্তাযুল হাদীস মুফতী সালমান মানসুরপুরিসহ অন্যান্য উলামায়ে কেরাম।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির
তথ্যসূত্র : ডেইলি হামারা সামাজ, দিল্লি


