মেরাজের শিক্ষা— নামাজে আল্লাহকে দেখা : আল্লামা মাসঊদ
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মেরাজ মানে নামাজে আল্লাহ তাআলাকে দেখা উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, মেরাজের শিক্ষা হলো, একাগ্রচিত্তে এমন ধ্যান মগ্নতার সাথে নামাজ আদায় করা, যেন নামাজে দাঁড়ালে আল্লাহ তাআলাকে দেখতে পাওয়া যায়। আল্লাহ তাআলাকে হৃদয়ে অনুভব করা যায়। তিনি বলেন, প্রকৃত মুমিন ব্যক্তি নামাজে দাঁড়ালে আল্লাহকে দেখবে। যেমন নবীজী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেরাজে আল্লাহ তাআলাকে দেখেছিলেন।
মেরাজের রাতে নামাজ ফরজ করা হয়েছে বিষয়টা এমন নয় মন্তব্য করে শোলিকায়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, মেরাজের আগেও উম্মতের উপর নামাজ ফরজ ছিল, কিন্তু সেটা পাঁচ ওয়াক্ত ছিল না। মেরাজের রাতে নামাজ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরিপূর্ণ করা হয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নামাজ আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনের উপহার। মেরাজের রাতে আল্লাহ তাআলা নবীজীকে তার বান্দাদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ উপহার হিসেবে দিয়েছেন।
শুক্রবার রাজধানীর খিলগাঁও ইকরা বাংলাদেশ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে সাইয়্যিদ মাওলানা আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
রমজানের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, রমজ মাস সমাপ্তির দিকে। শাবান সামনে হাজির। রমজানের প্রস্তুতি নেয়ার সময় এখনই। প্রতিটি মুসলমানের উচিত আল্লাহর কাছে নিজেদের নিবেদন করতে রমজানের আগেই যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা। তিনি বলেন, রমজান মাসের প্রতিটি সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনই রোজাদারদের দোয়া কবুলের সময়। সেই পবিত্র মাহে রমজান আসছে। এমন মহিমান্বিত একটি মাসের জন্য নিশ্চয়ই আমাদের মানসিক, শারীরিক ও উপযুক্ত রসদ নিয়েই প্রস্তুতি নেয়া উচিত। রমজানের আগেই দুনিয়ার যাবতীয় অকল্যাণ থেকে মুক্ত থেকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য প্রস্তুত হওয়া একান্ত জরুরি।
শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখার কথা উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের প্রস্তুতিস্বরূপ রজব ও শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখতেন, আমলের পরিমাণ অনেকগুণ বৃদ্ধি করে দিতেন। হাদীসে এসেছে, আয়শা সিদ্দিকা রা. বলেন, কখন রজব-শাবান মাস আসত তা আমরা নবীজীর আমলের আধিক্য দেখে বুঝতে পারতাম।
ইবাদতে আল্লাহকে অনুভব না করলে ইবাদতে স্বাদ আসে না মন্তব্য করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, ইবাদতে আল্লাহ তাআলাকে অনুভব করতে হবে। আল্লাহকে অনুভব না করলে ইবাদতে স্বাদ আসে না। আমরা ইবাদতে আল্লাহকে অনুভব করি না হলেই ইবাদতে স্বাদ পাই না, ইবাদতে করতে মজা পাই না। অথচ ইবাদত সবচেয়ে স্বাদের জিনিস। মাজার জিনিস। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা অনুভব আসার জন্য সবচেয়ে উপকারী ইবাদত হলো রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা।
মসজিদে উপস্থিত মুসল্লীদেরকে রমজানের শেষ দশকে ইকরা কমপ্লেক্স জামে মসজিদে ইতেকাফ করার আহ্বান জানান তিনি।


