যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ দরকার
মো. সিরাজুল হক : রেহানা নবম শ্রেণিতে পড়ে। কয়েকদিন ধরে সে স্কুলে যাচ্ছে না। বেশিরভাগ সময় ঘরের মধ্যেই বসে থাকে। লেখাপড়ায়ও তেমন মন নেই। মা রেহানাকে স্কুলে না যাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলে শরীর ভালো নেই। মেয়ের এ আচরণে মা চিন্তায় পড়ে গেলেন এবং এ বিষয়টি নিয়ে ভাবতে লাগলেন। তারপর রেহানার এক বান্ধবীর কাছে জানা গেল কয়েকটি বখাটে ছেলে স্কুলে যাবার পথে কয়েকদিন ধরে তাকে বিরক্ত করছে। খারাপ মন্তব্য করছে। একদিন নাকি ওড়না ধরেও টান দিয়েছে। এতে রেহানা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাই স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে বসবাসের জন্য প্রতিটি মানুষের কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয়। নিয়ম মানার শুরুটা হয় পরিবার থেকে, তারপর সামাজিক সচেতনতা থেকে। তবে শিক্ষার বিষয়টিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত শিক্ষা, মূল্যবোধ আর সচেতনতা একে অপরের পরিপূরক। অনেক পরিবারেই সন্তানদের নৈতিক শিক্ষার বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। এর পেছনে অপসংস্কৃতি, বাবা-মায়ের অসচেতনতা এবং পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় না হওয়া বড় কারণ।
সমাজ ব্যবস্থায় এগুলোর স্বল্পতা ও সমন্বয় সাধনের অভাবে শিশু কিশোররা অনাকাঙ্খিত আচরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। উঠতি বয়সের ছেলেরা নিজের ক্ষমতা জাহির করতে বুঝে না বুঝে বিপরীত স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে বখাটে হয়ে পড়ছে। ফলে বাড়ছে নারীদের যৌন হয়রানির ঘটনা। এর শিকার হয়ে নারীরা কেউ লেখাপড়া ছেড়ে দিচ্ছে, কেউবা আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রতিরোধের উপায় বের করা জরুরি।
সাধারণত কোনো নারীর প্রতি তার স্বাভাবিক চলাফেরার ক্ষেত্রে বা কর্মক্ষেত্রে বা কাজের ক্ষেত্রে অশালীন মন্তব্য করা, ভয় দেখানো, বিকৃত নামে ডাকা, কোনো কিছু ছুঁড়ে দেয়া, ব্যক্তিত্বে লাগে এমন মন্তব্য করা, যোগ্যতা নিয়ে মন্তব্য করা, কাউকে নিয়ে অহেতুক কৌতুক বা ব্যাঙ্গ করা, রাস্তায় হাঁটতে বাধা দেয়া, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করা, ইঙ্গিতপূর্ণ ইশারা করা, গায়ে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়া, উদ্দেশ্যেমূলকভাবে পিছু নেয়া, অশ্লীলভাবে প্রেম নিবেদন করা, উদ্দেশ্যেমূলকভাবে গান, ছড়া বা কবিতা আবৃত্তি করা, অশ্লীল ম্যাসেজ পাঠানো, পথরোধ করে দাঁড়ানো, প্রেমে সাড়া না দিলে হুমকি প্রদান করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ড যৌন হয়রানির মধ্যে পড়ে যা আইনত দণ্ডনীয়।
লেখক : কলামিস্ট


