রক্তঝরার সেই মাটিতেই দাফন হচ্ছে ড. সামাদের

রক্তঝরার সেই মাটিতেই দাফন হচ্ছে ড. সামাদের

রক্তঝরার সেই মাটিতেই দাফন হচ্ছে ড. সামাদের

শীলন বাংলা রিপোর্ট : মাটির কোনো দোষ নেই। বাতাসের কোনো অপরাধ নেই। সেখানকার আগুনপানির কোনো দায় নেই। তবু লালসবুজের এই মাটি শহীদের এই মরদেহ বহন করার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারতো। উচ্চ পর্যায়ের কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় আক্রান্ত মসজিদ আল নূর মসজিদের মুয়াজ্জিন ড. আবদুস সামাদকে নিউজিল্যান্ডের মাটিতেই দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

ইচ্ছে ছিল গ্রামের বাড়ি নাগেশ্বরী উপজেলার মধুরহাইল্যায় বাবা জামাল উদ্দিন সরকারের কবরের পাশে শায়িত হবেন ড. আবদুস সামাদ। সেই শেষ ইচ্ছা পূরণ হচ্ছে না। অবশ্য সেজন্য নির্দিষ্ট করে রাখা হয়েছিল জায়গাও। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের গোরস্তানে তার লাশ দাফন করা হবে। ঢাকায় বসবাসরত ড. সামাদের বড় ছেলে তোহান মোহাম্মদ এ তথ্য জানান।

তোহান আরও জানান, বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ৩টার দিকে তার বাবার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। এজন্য নিউজিল্যান্ডের পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারের সদস্যদের ডেকেছে। নিউজিল্যান্ডে বসবাসরত তার মা কেশোয়ারা সুলতানা ও ছোট দুই ভাই তারেক, তানভিরের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন।

ড. সামাদের ভাই মতিয়ার রহমান ও শামসুদ্দিনসহ পরিবারের সবাই আশা করেছিলেন ভাইয়ের লাশ দেশে আনলে তারা শেষবারের মতো তার মুখটা দেখতে পারতেন। তারা চেয়েছিলেন ভাইয়ের ইচ্ছা অনুযায়ী বাবার কবরের পাশে তার লাশ দাফন করা হবে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিকালে নাগেশ্বরী বাজারে ইসলামী আন্দোলনের উদ্যোগে মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।

এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে এই হামলাকে ইসলামবিদ্বেষ বর্ণবাদের সর্বশেষ নজির হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আল্লাহ নিশ্চয়ই নিহতদের ক্ষমা করে দেন। আহতদের দ্রুত সুস্থ হওয়ার সহায়তা প্রয়োজন।-খবর গার্ডিয়ান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান এ হামলার ঘটনায় মুসলিম বিশ্বের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডের হতাহত নাগরিকদের গভীল শোক জানিয়েছেন।

ইসলামবিদ্বেষ ও বর্ণবাদ বৃদ্ধির সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হিসেবে এ ঘটনাকে দাঁড় করিয়েছেন মুসলিম বিশ্বের এ নেতা।

ক্রাইস্টচার্চের হামলাকে সুপরিকল্পিত বললেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডান। তিনি বলেন, ক্রাইস্টচার্চে যা ঘটেছে, সেটা সন্ত্রাসী হামলা। এখন পর্যন্ত আমরা যা জেনেছি, তাতে এটা পরিষ্কার যে, এ হামলা ছিল সুপরিকল্পিত। হামলাকারীর গাড়িতে দুটি বিস্ফোরক ডিভাইস যুক্ত করা ছিল। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে নেয়া হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *