পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ‘রমজান হলো গুনাহ মাফের মাস। এই মাসেও যে তার গুনাহ মাফ করাইতে পারলো না, তার চেয়ে হতভাগা আর কেউ নাই। তাই আসুন, রমজান মাস থাকতেই আমরা নিজেদের গুনাহ মাফ করিয়ে নেই’— বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
শুক্রবার (৭ মে) ইকরা বাংলাদেশ কমপ্লেক্স জামে মসজিদে জুমার বয়ানে মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.) এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, রমজানের একটি সময় শবে কদরের সারারাত ইবাদাত করার চেয়ে উত্তম। তেমনিভাবে রমজান মাসের শুক্রবার রমজানের অন্যান্য দিনের চেয়ে উত্তম। আর জুমাতুল বিদা (রমজানের শেষ শুক্রবার) রমজানের অন্যান্য শুক্রবারের চেয়ে উত্তম।
শুক্রবারের বিশেষ আমলর কথা স্মরণ করিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, জুমার নামাজ, তারাবি তো আছেই, তাছাড়া শুক্রবারের আরেকটি বিশেষ আমল হলো বেশী বেশী দুরুদ শরীফ পড়া।
শুক্রবারের সবচেয়ে শক্তিশালী সময়ের কথা উল্লেখ করে শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, শুক্রবারে এমন দুটি সময় আছে, যে দুই সময় আল্লাহ তাআলা যে কোন নেক ও হালাল দোয়া কবুল করে থাকেন। এক হলো, খুৎবা শুরু থেকে নিয়ে নামাজ শেষের আগ পর্যন্ত। আরেকটা সময় হলো আসরের পর থেকে মাগরীব পর্যন্ত। এই দুই সময় আল্লাহ তাআলা যে কোন নেক ও হালাল দোয়া অবশ্যই অবশ্যই কবুল করেন।
অন্তর থেকে আমল ও ইবাদাত করার তাগিদ দিয়ে এই আধ্যাত্মিক রাহবার বলেন, জবানের ইবাদাতের চেয়ে দিলের ইবাদাত শক্তিশালী। তেমনিভাবে জবানের দোয়ার চেয়ে দিলের দোয়া শক্তিশালী। তাই আমরা অন্তর থেকে আমল ও ইবাদাত করবো। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আল্লাহার কাছে মাফ চাইবো।
ইফতারীর আয়োজন করতে গিয়ে যেন আমরা সবচেয়ে মুল্যবান সময়কে নষ্ট না করি সেই দিকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, ইফতারের আগ মূহুর্ত রমজানের সবচেয়ে মূল্যবান সময়। ইফতারীর আয়োজন করতে গিয়ে যেন আমরা এই মুলবান সময়টাকে নষ্ট না করি। এই সময়টায় আমরা আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করবো। গুনাহের জন্য মাফ চাইবো। আজান হলে হালকা কিছু খেয়ে নিবো। এরপর মাগরীবের নামাজের পর ভরপুর খেতে কোন সমস্যা নেই।
জুমার নামাজ শেষে মোনাজাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা ও দেশ-জাতি, করোনা মহামারি থেকে মুক্তি এবং মুসলিম উম্মাহের জন্য শান্তি কামনা করেন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।


