পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রমজান মাস মুমিনের জন্য রহমত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ও বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়া বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
তিনি বলেন, রমজান মাস বছরের এগারোটা মাস থেকে বারাকাতের দিক থেকে একেবারেই আলাদা। আল্লাহ তাআলার কাছে এ মাসের মর্যাদা অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় শ্রেষ্ঠ। এ মাসে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনুল কারীম নাযিল করেছেন। এ মাসে আল্লাহ তাআলা শয়তানকে বন্দী করে রাখেন, যাতে করে বান্দা নির্বিঘ্ন ইবাদাত করে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করতে পারে। এ মাসের একেকটি দিন অন্য একটি দিনের তুলনায় শ্রেষ্ঠ। একেকটি মুহূর্ত শবে বরাতে সারারাত ইবাদাত করার চেয়েও উত্তম। তাই আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাদেরকে রমজানের বারাকাতকে লাভ করার তাওফিক দান করেন।
শুক্রবার (০১ এপ্রিল) রাজধানীর ইকরা ঝিল মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, আমরা শাবান মাসের একেবারেই শেষ দিকে অবস্থান করছি। আজকে শাবান মাসের শেষ জুমা। হয়ত আর এক-দুইদিন পর রমজান শুরু হয়ে যাবে। আমরা যেন রমজান পেতে পারি সেজন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তাআলার কাছে শাবান মাসে বারাকাত লাভ ও রমজান মাস পর্যন্ত হায়াৎ বৃদ্ধির জন্য বেশি বেশি দোয়া করতেন। তাই আমরাও এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়বো, “আল্লাহম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রামাদান”।
রমজান মাসকে আল্লাহ তাআলা তিনভাগে ভাগ করেছেন উল্লেখ করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, আল্লাহ তাআলা পবিত্র রমজান মাসকে তিনভাগে ভাগ করেছেন। প্রথম দশ দিন আল্লাহ তাআলা বান্দার উপর রহমত নাযিল করেন। দ্বিতীয় দশ দিন বান্দাকে ক্ষমা করে থাকেন। আর তৃতীয় দশ দিন বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। সুতরাং বোঝা গেল রমজানের প্রতিটি পর্বই গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যাক্তি রমজানের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত পেল সে কামিয়াব হয়ে গেল। আর এক হাদীসে এসেছে, যে ব্যাক্তি রমজান পেয়েও গোনাহ মাফ করাতে পারলো না তার জন্য ধ্বংস।
রমজানে ইখলাসের সাথে আমল করতে হবে জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, রমজান মাসে ছোটো বড় যে আমলই করি না কেন ইখলাসের সাথে আমল করতে হবে। তাহলে আল্লাহ তাআলা ছোট বড় সব গোনাহ মাফ করে দিবেন। আর ইখলাসের সাথে আমল না করলে যত বড় আমলই করি না কেন, আল্লাহ তাআলা তা কবুল করবেন না। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানের বারাকাত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমীন।


