রাতভর পুলিশের তল্লাশি, সকালে বিক্ষোভে উত্তাল মায়ানমার

রাতভর পুলিশের তল্লাশি, সকালে বিক্ষোভে উত্তাল মায়ানমার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মিয়ানমারে সেনাবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ করছেন কয়েক হাজার মানুষ। আজ রোববার সকালে মান্দালে শহরে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। প্রচারিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে নিহতদের স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর বিক্ষোভকারীরা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এ ছাড়া, ইয়াঙ্গুন ও দাওয়েই শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে। প্রতিদিনই মিয়ানমার বিক্ষোভ থেকে পুলিশি হামলায় সাধারণ জনতার আহত-নিহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে।

ইয়াঙ্গুনের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে আজ রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত রাতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ইয়াঙ্গুনের বেশ কটি এলাকায় সেনাবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালায়। সে সময় তারা গুলিও ছোড়ে।

তারা আরও জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কমপক্ষে তিন জন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে, কোন অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হলো তা জানা যায়নি। গণতন্ত্রকামী নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও খোঁজ নিতে শুরু করেছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী।

দেশটির বিলুপ্ত ঘোষিত সংসদ সদস্য সিথু মং এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির জন্য কাজ করেন এমন এক আইনজীবীর খোঁজে তার বাড়িতে গিয়েছিল সেনাবাহিনী। তবে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি।

অ্যাডবোকেসি গ্রুপ অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস (এএপিপি) বলেছে, সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত দেশটিতে এক হাজার সাত শ’র বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।

এএপিপি এক বিবৃতিতে বলেছে, আটক ব্যক্তিদের বুট দিয়ে লাথি মেরে, লাঠিপেটা করে কিংবা মারধর করে টেনে হিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়েছে। তারা আবাসিক এলাকায় ঢুকে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করে। সে সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনী গুলি চালায় ও বাড়ি-ঘরে জিনিসপত্র ভাঙচুর করে।

মিয়ানমারে গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থান ও দেশটিতে নির্বাচিত নেতা অং সান সু চিকে আটক করার পর থেকেই ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রতিদিনের বিক্ষোভ-ধর্মঘটের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেমে গেছে, দেশটির ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে গেছে, প্রশাসনিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জাতিসংঘ বলছে, মিয়ানমারে বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের গুলিতে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মিয়ানমারের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিক্ষোভ সমাবেশে নিরাপত্তারক্ষীদের হামলায় ৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *